মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত মরুভূমিতে এখন কেবল ড্রোন আর মিসাইলের গর্জন নয়, পর্দার আড়ালে চলছে মহাকাশভিত্তিক এক অদৃশ্য স্নায়ুযুদ্ধ। মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপ এখন বেইজিংয়ের ‘ডিজিটাল চোখের’ নিচে। চীনের শক্তিশালী জিলিন-ওয়ান (Jilin-1) স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোপনীয় সামরিক তৎপরতা এখন কার্যত উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।
জিলিন-ওয়ান: মহাকাশে চীনের অদৃশ্য গোয়েন্দা
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই স্যাটেলাইট বহর মার্কিন নৌবহর, যুদ্ধবিমান এবং সামরিক ঘাঁটির প্রতিটি নড়াচড়া রিয়েল-টাইমে শনাক্ত করছে। জিলিন-ওয়ান সিস্টেমের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
উচ্চ রেজুলেশন: এই স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবী থেকে ৫৩৫ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করে যুদ্ধজাহাজ বা বিমানের অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম।
রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে এটি চলন্ত লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে অনুসরণ করতে পারে।
ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ: পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দিনে একাধিকবার অতিক্রম করার ফলে কোনো তথ্যই নজর এড়াতে পারছে না।
ইরানের হাতে কি পৌঁছে যাচ্ছে গোপন তথ্য?
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই গোয়েন্দা তথ্যের গন্তব্য। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বেইজিং তাদের সংগৃহীত এই উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য ইরানের সাথে শেয়ার করছে।
"যদি এই তথ্য তেহরানের হাতে পৌঁছায়, তবে মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু বা কৌশল তারা আগেই বুঝে ফেলবে। এতে ওয়াশিংটনের সারপ্রাইজ অ্যাটাক বা গোপনীয়তার সুবিধা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।" — প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক
নতুন এক কৌশলগত সমীকরণ
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতকে চীন একটি 'বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের পরীক্ষাগার' হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েকশ স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে গঠিত চীনের এই নেটওয়ার্ক যুদ্ধের প্রচলিত হিসাব-নিকাশ বদলে দিচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, মধ্যপ্রাচ্যে লড়াইটা কি কেবল আমেরিকা বনাম ইরানের, নাকি এর নেপথ্যে মহাকাশ থেকে কলকাঠি নাড়ছে চীন?
এই অদৃশ্য মহাকাশ যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজু








