ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

গভর্নরকে স্মারকলিপি

চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের কর্মীদের মানববন্ধন

প্রকাশিত: ১৯:০৯, ১২ মার্চ ২০২৬

চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের কর্মীদের মানববন্ধন

ছবি: দৈনিক জনকন্ঠ

চাকরিচ্যুত প্রায় ১০ হাজার ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী ধারার কয়েকটি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

স্মারকলিপিতে তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর বিভিন্ন ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বৈষম্যমূলক ও প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক হয়রানি, জোরপূর্বক পদত্যাগ, চাকরিচ্যুতি এবং মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন, যা দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে দাবি করেন তারা।

তারা বলেন, ব্যাংকের নীতিমালা ও মানবসম্পদ নীতিকে উপেক্ষা করে অবৈধভাবে কিছু বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ এবং তথাকথিত “দক্ষতা মূল্যায়ন” পরীক্ষার মাধ্যমে অনেককে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে না, বরং দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তাদের উত্থাপিত দাবির মধ্যে রয়েছে—

আগস্ট ২০২৪–এর পর অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহাল,

অবৈধভাবে গঠিত বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা বাতিল করে দক্ষ ও পেশাদার বোর্ড গঠন,

ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাব ও বৈষম্য বন্ধ,

তথাকথিত দক্ষতা মূল্যায়নের নামে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া বন্ধ,

ব্যাংকের অভ্যন্তরে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও কর্মীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।


কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও বৈষম্য চলতে থাকলে তা শুধু কর্মীদের নয়, দেশের অর্থনীতির ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

এ অবস্থায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এফএ

×