বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন যাত্রা শুরু করেছে গতকাল বৃহস্পতিবার। গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি পরিচ্ছন্ন, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে এবার সংসদের প্রথম অধিবেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের জনপ্রত্যাশা পূরণ ও সংস্কার বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ থাকবে সংসদের ওপর। বৃহস্পতিবার সকালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসন ফাঁকা রেখে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অধিবেশন।
সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয় তাঁর সভাপতিত্বে। তবে এবার এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। নতুন সংসদ নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পেয়েছে। স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার হন কায়সার কামাল। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। স্পিকারের বক্তব্যের পর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথমবারের মতো সংসদে বিরোধী দল হিসেবে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
আইন অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করাটাই রীতি। রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এবারের সংসদের প্রথম অধিবেশন আরেকটি দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে যে ১৩৪টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, সেগুলো উত্থাপন করা হবে সংসদে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি করা অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস করতে হবে। অন্যথায় সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণয়ন করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে যেমন বিতর্ক আছে, আবার কিছু অধ্যাদেশ প্রয়োজনীয়।
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জাতীয় সংসদ রাজনীতির বাতিঘর। সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকাই জাতিকে একটা প্রাণবন্ত ও কার্যকর জাতীয় সংসদ উপহার দিতে পারে। জাতীয় সংসদই সকল জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হবে, এটিই রীতিসিদ্ধ পদ্ধতি। অতীতে আমরা এর বহু ব্যত্যয় প্রত্যক্ষ করেছি। বিষয়টি আবার সামনে এনেছেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের দুটি প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ হবে গণতন্ত্র চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
বলাবাহুল্য, দেশের মানুষ গভীর আগ্রহ ও প্রত্যাশা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে। সংসদ সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জাতির সেই প্রত্যাশা পূরণ করবেন, এমনটাই কাম্য।
প্যানেল/মো.








