ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

জলবায়ু ঝুঁকি: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা থেকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় রূপান্তর এখন অপরিহার্য

সাকিফ শামীম

প্রকাশিত: ১৭:১৮, ১২ মার্চ ২০২৬; আপডেট: ১৭:১৮, ১২ মার্চ ২০২৬

জলবায়ু ঝুঁকি: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা থেকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় রূপান্তর এখন অপরিহার্য

ছবি: সংগৃহীত।

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনকে দীর্ঘদিন ধরে মূলত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সমস্যা হিসেবে দেখা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এটি এখন অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি কৃষি উৎপাদন, শ্রমবাজার, নগরায়ণ, স্বাস্থ্যব্যয়, অবকাঠামোর স্থায়িত্ব এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের কৃষি জিডিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রায় ১৩.৩ মিলিয়ন মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসী হয়ে উঠতে পারে। তাপপ্রবাহের কারণে কর্মঘণ্টা কমে যাওয়া, স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি এবং শহুরে শ্রমবাজারে চাপ তৈরি হওয়াও এখন বড় অর্থনৈতিক বাস্তবতা।

বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে—বিশেষ করে সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, সাইক্লোন শেল্টার এবং কমিউনিটি প্রস্তুতির ফলে ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যুহার কমেছে। তবে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো প্রাণহানি কমলেও অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমেনি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আয় হ্রাস, কৃষি উৎপাদনের অনিশ্চয়তা, অবকাঠামোর দ্রুত ক্ষয়, স্বাস্থ্যব্যয় বৃদ্ধি এবং গ্রাম-শহর অভিবাসন বাড়ছে। তাই জলবায়ু নীতি শুধু পরিবেশ বা দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়; বরং অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, কৃষি, স্বাস্থ্য, নগর উন্নয়নসহ সব খাতের সমন্বিত অর্থনৈতিক নীতি হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রাধিকার প্রয়োজন: সব বড় সরকারি বিনিয়োগে বাধ্যতামূলক climate risk screening, বাজেটে climate outcome tracking, কৃষি-স্বাস্থ্য-পানি-নগর খাতে sector-specific অভিযোজন পরিকল্পনা, জেলা ও আঞ্চলিক শহরভিত্তিক বিকেন্দ্রীভূত উন্নয়ন, এবং দুর্যোগ প্রতিক্রিয়ার বাইরে গিয়ে climate-resilient economic planning প্রতিষ্ঠা করা। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩–২০৫০ সময়ে প্রায় ২৩‍০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে, যা প্রমাণ করে যে জলবায়ু এখন কেবল পরিবেশগত নয় বরং ফিসক্যাল ও উন্নয়ন নীতির মৌলিক ইস্যু। তাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন টেকসই রাখতে জলবায়ু ঝুঁকিকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় অংশে রূপান্তর করা অপরিহার্য।

লেখক:
সাকিফ শামীম, এফএসিএইচই, এফএলএমআই
অর্থনীতিবিদ; ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড Hospitals গ্রুপ
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী, এফবিসিসিআই

এম.কে

×