ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

এবার যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের ‘সাইবার হামলা’

ওয়াহেদ রাজু

প্রকাশিত: ১৮:১৯, ১২ মার্চ ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের ‘সাইবার হামলা’

আধুনিক যুদ্ধ আর কেবল সীমান্তে বন্দুক বা ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এখন যুদ্ধের নতুন ময়দান সাইবার স্পেস। যেখানে হাসপাতাল, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এমনকি শেয়ার বাজারও পরিণত হচ্ছে সংঘাতের নতুন লক্ষ্যবস্তুতে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের প্রভাব এবার রণক্ষেত্র ছাড়িয়ে সাইবার জগতে আছড়ে পড়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইকার (Stryker)-এর ওপর বড় ধরনের সাইবার হামলার দাবি করেছে ইরানপন্থী একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। এই ঘটনার জেরে মার্কিন শেয়ার বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

হামলার প্রভাব ও স্ট্রাইকারের বর্তমান অবস্থা
মিশিগান ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইকার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, এই সাইবার হামলার ফলে তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক এবং মাইক্রোসফট এনভায়রনমেন্ট মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

জরুরি সরঞ্জামের ঝুঁকি: কোম্পানিটি মূলত ডি-ফিব্রিলেটর, সার্জিক্যাল রোবট এবং অ্যাম্বুলেন্সের জরুরি সরঞ্জাম তৈরি করে।

রোগী পরিষেবা: বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ কোটি রোগী সরাসরি স্ট্রাইকারের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা কেবল একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ওপর নয়, বরং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর এক বড় আঘাত।

শেয়ার বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্ট্রাইকারের শেয়ারের দাম একদিনেই ৩ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সাইবার যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে স্বাস্থ্য-প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে স্ট্রাইকার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো 'র‍্যানসমওয়্যার' বা ম্যালওয়্যারের সরাসরি প্রমাণ মেলেনি। তবে হামলার প্রভাব কেবল যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি; আয়ারল্যান্ডে থাকা কোম্পানির কম্পিউটার সিস্টেমগুলোতেও একই ধরণের সমস্যা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে কোম্পানির কারিগরি দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং সিস্টেমগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

হামলার নেপথ্যে: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। তাদের মতে, ইরানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা মার্কিন এই অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

 

রাজু

×