ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

জনপ্রতিনিধিদের কাছে প্রতিকার দাবি

তারাগঞ্জে সেতুর অভাবে মানুষের দুর্ভোগ

মো. লালমিয়া, তারাগঞ্জ, রংপুর

প্রকাশিত: ২২:১০, ১৩ মার্চ ২০২৬

তারাগঞ্জে সেতুর অভাবে মানুষের দুর্ভোগ

রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার হাঁড়িয়ারকুঠি ও কুর্শা ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনেশ্বরী নদী। এই নদীর  চাকলা বা নারায়ণজন ঘাটের ওপর একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।
বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে মানুষজনকে নৌকা বা কলাগাছের ভেলায় করে পার হতে হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে গেলেও হাঁটু কাঁদা, বালু ও পানির ভেতর হেঁটে পারাপার হতে হয় স্থানীয়দের। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, নারী ও বৃদ্ধ সবাইকে প্রতিদিনই ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। প্রতিবছর বর্ষার আগে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে পারাপার হন। কিন্তু বন্যা বা পানির স্রোতে কয়েক মাস না যেতেই সেটি ভেঙে পড়ে। তখন আবারও ঝুঁকি নিয়ে কলাগাছের ভেলায় বা ছোট ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে হয়।
কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহেবুল ইসলাম বলেন  এখানে একটা সেতু না থাকায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় স্কুলপড়ুয়া ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের। বর্ষায় নদী ভরাট থাকলে তারা স্কুলে যেতে পারে না। কখনো নৌকা না পেলে কলাগাছের ভেলায় করেই পার হতে হয়। রহিমাপুর চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নদীর ওপারে জেলে পাড়া, জুলুবর, নারায়ণজন  গ্রামের  আমাদের অনেক শিক্ষার্থী থাকে। বর্ষার সময় নৌকা চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, তখন তারা বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। এতে তাদের পড়াশোনায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে।’
সেতুর অভাবে স্থানীয় কৃষকরাও পড়ছেন বিপাকে।
তাদের উৎপাদিত ধান, পাট, সবজি ও অন্যান্য ফসল বাজারে নিতে হয় এই পথ দিয়েই। সেতু না থাকায় যাতায়াতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যায়, পাশাপাশি ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। হাঁড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের জেলেপাড়া ঘাটের বৃদ্ধ আবু আলী বলেন, ‘এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ২৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। বর্ষায় নৌকা ছাড়া উপায় থাকে না, কিন্তু নৌকা সবসময় পাওয়া যায় না। আমরা বহুবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতুর দাবি জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি।’
স্থানীয়রা জানান, এই নদীর দুই পাড়ে রয়েছে স্কুল, কলেজ, হাট-বাজার, মসজিদ, মাদরাসা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রয়োজনে পারাপার হয়। কিন্তু সেতু না থাকায় চরম কষ্টে দিন কাঁটাতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নিতে হলে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও বিপজ্জনক। এলাকাবাসীর দাবি, যমুনেশ্বরী নদীর ওপর যদি একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়, তাহলে দুই ইউনিয়নের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এর ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ফিরে আসবে স্বস্তি ও গতি।
তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ওই জায়গার দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না।’

 

প্যানেল / জোবায়ের

×