মোংলা-খুলনা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহতের মধ্যে মোংলায় একই পরিবারের ৯ জনের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগেরহাটের রামপালে এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে তাদের মোংলা পোর্ট পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো এনে গোসল শেষে সকাল থেকে একে একে তাদের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। কনে পক্ষের বাড়ি কয়রায় ও রামপালের চালকসহ ৫ জনকে নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তিদের প্রতিজনকে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে আরও অনুদান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বর-কনেসহ মোট ১৪ জন এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করে। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্য। তারা হলেন- আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, এক মেয়ে ঐশী, চার নাতনি আরফা, ইরান, ফাহিম ও আলিফ।
এছাড়া, তার এক পুত্রবধূ পুতুল বেগম নিহত হন। কয়রা উপজেলার কনে, তার বোন, দাদি ও নানি এবং রামপাল উপজেলার মাইক্রোবাস চালকও দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
মোংলায় বর সাব্বির ও তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ পরিবারের ৯ জনের মরদেহ শুক্রবার ভোর রাতে মোংলার শেহালাবুনিয়ায় শহরের ৮নং ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে পৌঁছলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা পৌর কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, কনে মিতু, তার বোন, নানি ও দাদির মরদেহ খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে শুক্রবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাদের নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়। মাইক্রোবাস চালককে দাফন করা হয় রামপালে তার নিজ বাড়িতে।
মোংলায় একই পরিবারের ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় উপজেলা মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নেনÑ মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাওলানা আ. ওয়াদুদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার মো. হাছান চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম, পৌর বিএনপি সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপি সভাপতি আ. মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-খুলনা সড়কে যে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে তা দুঃখজনক। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। দুর্ঘটনায় নিহতদের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এবং নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
প্যানেল / জোবায়ের








