ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইল–এর চলমান সংঘাত ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা বিশ্ব। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আশপাশের অনেক দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, সামরিক শক্তির প্রদর্শন এবং পারমাণবিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে এই দুই দেশ।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে—যদি কখনো বাংলাদেশ বড় কোনো সামরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, তাহলে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কতটা? আধুনিক যুদ্ধের জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী?
সামরিক শক্তি বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা Global Firepower–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বের সামরিক শক্তির তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৭তম। প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ১৪৫টি দেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সামরিক সরঞ্জাম, জনবল এবং প্রতিরক্ষা বাজেটসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
২০২৩ সালে যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৪০তম, সেখানে কয়েক বছরের ব্যবধানে তিন ধাপ এগিয়েছে দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এই অগ্রগতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ থেকে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে। বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, তুরস্ক এবং **ভারত**সহ সমরাস্ত্র প্রযুক্তিতে উন্নত দেশগুলো থেকে যুদ্ধবিমান, ট্যাংক এবং সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম সংগ্রহ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র সংগ্রহে চীনের ওপর নির্ভরতা বেশি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশও এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। সুইডেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Stockholm International Peace Research Institute–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অস্ত্র আমদানিতে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৮তম।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর শক্তির দিকে তাকালে দেখা যায়, বর্তমানে বহরে প্রায় ২১২টি বিমান রয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান রয়েছে প্রায় ৪৪টি। এসবের মধ্যে চীনে নির্মিত Chengdu F‑7 যুদ্ধবিমান রয়েছে ৩৬টি এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে তৈরি MiG‑29 যুদ্ধবিমান রয়েছে ৮টি।
এছাড়া রাশিয়া থেকে কেনা Yakovlev Yak‑130 প্রশিক্ষণ বিমান রয়েছে ১৪টি, যা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সীমিত আক্রমণ পরিচালনার সক্ষমতাও রাখে। পরিবহন বিমান, প্রশিক্ষণ বিমান এবং বিভিন্ন ধরনের হেলিকপ্টার যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বিমানবাহিনীর সক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে।
আধুনিক যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা ড্রোন প্রযুক্তিতেও এগোচ্ছে বাংলাদেশ। তুরস্কের তৈরি Bayraktar TB2 ড্রোনসহ বিভিন্ন নজরদারি ড্রোন ইতোমধ্যে বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে নৌবাহিনীতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। চীনে নির্মিত দুটি আক্রমণাত্মক সাবমেরিন যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সাবমেরিন যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে নৌবাহিনীর বহরে প্রায় ১১৭টি নৌযান রয়েছে, যার মধ্যে ফ্রিগেট ও করভেট শ্রেণির যুদ্ধজাহাজও রয়েছে।
সব মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র সংযোজনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
নুসরাত








