প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ঘিরে বাজারে মুরগির চাহিদা বাড়ে। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দাম। এ বছরও ঈদ সামনে রেখে চড়া মুরগির বাজার। গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে মুরগির দাম বাড়ছে। এ সময়ের ব্যবধানে প্রতি কেজি মুরগির দাম প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সঙ্গে বেশ কয়েক মাস নিম্নমুখী থাকা ডিমের দামও কিছুটা বেড়েছে।
তবে ঈদের আগে চাল, ডাল, চিনি, ছোলাসহ অধিকাংশ পণ্য স্থিতিশীল রয়েছে। আর চাহিদা কমায় পেঁয়াজসহ রমজানের পণ্যসহ বেশকিছু সবজির দাম কমেছে। দাম কমে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। নিত্যপণ্যের বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও দেশি সব ধরনের মুরগির দামই বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদে মুরগির চাহিদা বাড়ে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২২০-২৩০ টাকা, সোনালি মুরগি ও লেয়ার মুরগি ৩৩০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহে এসব মুরগি কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। যেখানে গত সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি ২৮০-৩০০ টাকায় আর লেয়ার মুরগির ২৭০-২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো। অন্যদিকে, বাজারে এখন প্রতি কেজি দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০-৭০০ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা।
রাজধানীর রামপুরা বাজারের মুরগি বিক্রেতা ফরিদ হোসেন বলেন, রমজানের ঈদে অধিকাংশ মানুষ মুরগি খায়। বড়লোকরাও খায়, গরিবরা আরও বেশি খায়। রেস্টুরেন্টেও চাহিদা বাড়ে। যে কারণে এরই মধ্যে কিছুটা চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু চাহিদা বাড়লেও সেভাবে সাপ্লাই নেই। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সেভাবে মুরগি সরবরাহ হচ্ছে না। আর পাইকারি বাজারে প্রতিদিন ৫-১০ টাকা করে দাম বাড়ছে’ বলেন তিনি।
অন্যদিকে, বাজারে অনেকদিন ধরে ফার্মের
মুরগির ডিমের দাম নিম্নমুখী ছিল। এখন সেই দামও কিছুটা বেড়েছে। এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। প্রতি ডজনে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। রমজান শেষ হয়ে আসায় বাজারে ছোলা ও ডালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে। চিনির দামও আগের মতো ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বাজারে কিছুদিন ভোজ্যতেলের সংকট থাকলেও এখন সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। যদিও তাতে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ক্রেতারা এক দোকানে না পেলেও অন্য দোকান ঘুরে তেল পাচ্ছেন। প্রতি লিটার বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা দরে।
এ ছাড়া বাজারে বেশকিছু সবজির দাম কম দেখা গেছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিপ্রতি ২০ টাকা কম। মূলত, ৬০ টাকার মধ্যেই করলা ছাড়া অন্যান্য প্রায় অধিকাংশ সবজি কেনা যাচ্ছে। বাজারে এখন প্রতি কেজি আলু ১৫ থেকে ২০ টাকা ও পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা মহিবুল বলেন, এখন অনেক মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। ফলে বাজারে ক্রেতা কম। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা কম থাকায় দাম কমছে। সোনালির পাশাপাশি দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। আর বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
তবে বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে সবজির দাম। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের আর মাত্র ৮-৯ দিন বাকি। ঈদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনেকে এখন থেকেই মুরগি কিনে রাখছেন। এতে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম বেড়েছে। রোজার শুরুতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে ২০০-২২০ টাকা কেজি হয়েছিল। এর কয়েক দিন পর দাম কমতে থাকে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকায় কেনা গেছে। এরপর দাম আবার বাড়তে থাকে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা ছাড়ায়। সর্বশেষ গত তিন দিনে সেই দাম আরও বেড়েছে। আজ ঢাকার তিনটি বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকায়; অর্থাৎ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৬০ টাকা বেড়েছে। আর তিন দিনের মধ্যে কেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়েছে।
এদিকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। আজ রাজধানীতে মানভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩২০-৩৫০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে ৩৬০ টাকা দরেও সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি সোনালির দাম ছিল ২৭০-৩০০ টাকা। বাজারে অনেক দিন ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম স্থিতিশীল ছিল। এখন সেই দামও বেড়েছে। আজ এক ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকায়। প্রতি ডজনে দাম বেড়েছে ১০ টাকা।
প্যানেল / জোবায়ের








