স্পিকার হওয়ার পর ভালোবাসায় সিক্ত মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন একজন সাবেক তারকা ফুটবলার। তিনি মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি ও সামরিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ হলেও তার একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও গৌরবোজ্জ্বল খেলোয়াড়ি জীবন রয়েছে। মূলত ফুটবলার হিসেবে তিনি ষাটের দশকের অন্যতম সেরা তারকা ছিলেন। চৌকস অ্যাথলেট হিসেবেও তাঁর ছিল দারুণ সুখ্যাতি।
সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্পিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। স্পিকারই মূলত সংসদ পরিচালনা করেন। চলমান জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (অব)। বর্তমান প্রজন্মের কাছে হাফিজ উদ্দিনের পরিচয় শুধু রাজনীতিবিদ। সাম্প্রতিক তার ক্রীড়াবিদের চেয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পরিচয়টাই বড় হয়ে উঠেছে। তবে তিনি দেশের অন্যতম তারকা ক্রীড়াবিদদের একজন। যিনি অ্যাথলেটিক্স ও ফুটবল সব অঙ্গনেই শীর্ষ ক্রীড়াবিদ ছিলেন। একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, খেতাবপ্রাপ্ত জাতির সূর্যসন্তান, ৭ বারের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন ও ভালবাসায় সিক্ত করে চলেছেন দেশের মানুষ।
এই প্রতিবেদনে হাফিজ উদ্দিনের খেলোয়াড়ি জীবনের প্রধান অর্জন ও বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো-
ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু ও ক্লাব ফুটবল
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : ফুটবলার হিসেবে তার প্রথম পরিচিতি আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে খেলার সময়। সেখানে আন্তঃবিভাগীয় ফুটবলে তিনি টানা দুটি হ্যাটট্রিক করে নজর কাড়েন।
ক্লাব ফুটবল : তিনি ঢাকা লিগে ফায়ার সার্ভিস দলের হয়ে খেলা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি তৎকালীন সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ক্লাব ঢাকা ওয়ান্ডারার্স এবং ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে কৃতিত্বের সঙ্গে খেলেছেন।
জাতীয় দল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন
পাকিস্তান জাতীয় দল : তিনি অবিভক্ত পাকিস্তানের জাতীয় ফুটবল দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন (১৯৬৬-১৯৭০)। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে হাতেগোনা যে কজন ফুটবলার পাকিস্তান জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন, তিনি তাদের একজন।
অধিনায়কত্ব : তিনি ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ঢাকা মোহামেডান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলেরও অধিনায়ক ছিলেন।
আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট : তিনি মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ এবং ইরান, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার আরসিডি (জঈউ) টুর্নামেন্টে অংশ নেন।
অ্যাথলেটিক্স ও অন্যান্য সাফল্য
দ্রুততম মানব : ফুটবল ছাড়াও অ্যাথলেট হিসেবে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। ১৯৬৪, ১৯৬৫ এবং ১৯৬৬ সালে তিনি টানা তিন মৌসুম পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন। ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে তিনি রেকর্ড টাইমিংয়ে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন।
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার : ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার লাভ করেন।
ফুটবল প্রশাসক ও বৈশ্বিক স্বীকৃতি
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি খেলাধুলার সংগঠক ও প্রশাসক হিসেবেও সফল ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (অঋঈ) নির্বাচিত সহ-সভাপতি এবং ফিফার (ঋওঋঅ) ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্য ছিলেন।
ফিফা অর্ডার অব মেরিট : ফুটবলে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি ফিফার সর্বোচ্চ সম্মান ‘ফিফা অর্ডার অব মেরিট’ (ঋওঋঅ ঙৎফবৎ ড়ভ গবৎরঃ) লাভ করেন।
মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের বিশেষত্ব হলো, তিনি একই সঙ্গে একজন জাতীয় স্তরের ফুটবলার, অ্যাথলেট, দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা এবং সফল রাজনীতিবিদ।
প্যানেল হু








