ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

নৌপথে যাত্রী চাপ কমাতে বসিলা-শিমুলিয়ায় বিকল্প লঞ্চ ঘাট

ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ

প্রকাশিত: ০০:৩১, ১৩ মার্চ ২০২৬

নৌপথে যাত্রী চাপ কমাতে বসিলা-শিমুলিয়ায় বিকল্প লঞ্চ ঘাট

বসিলা-শিমুলিয়ায় বিকল্প লঞ্চ ঘাট

ঈদ উপলক্ষে বাড়ছে নৌপথের যাত্রীদের চাপ। ঈদযাত্রায় রাজধানীর সদরঘাট থেকে প্রতিদিন শতাধিক যাত্রীবাহী লঞ্চ বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচল করবে। তাই ঢাকা থেকে ঈদযাত্রায় নৌপথের যাত্রীদের চাপ নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিকল্প লঞ্চ ঘাট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নৌমন্ত্রণালয়। 
এর মধ্যে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের বিকল্প হিসেবে রাজধানীর মোহাম্মাদপুরের বসিলা লঞ্চঘাট চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই ঘাট থেকে ঢাকা-হাকিমুদ্দিন, ঢাকা-ইলিশা, ঢাকা-চাঁদপুর, ঢাকা-শরীয়তপুর ও ঢাকা-গলাচিপা রুটে লঞ্চগুলো ছেড়ে যাবে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর লঞ্চ টার্মিনালের বিকল্প হিসেবে কাঞ্চন ব্রীজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাটকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই ঘাট থেকে চাঁদপুরগামী লঞ্চগুলো ছেড়ে যাবে। আগামী ১৭ মার্চ থেকে এই বিকল্প ঘাটগুলোতে যাত্রীবাহী লঞ্চ সার্ভিস চলাচল শুরু হবে বলে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)’র কর্মকর্তারা জানান।   
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (নৌনিরাপত্তা-ট্রাফিক) মো. আলমগীর কবীর জনকণ্ঠকে বলেন, ‘নৌপথে যাতায়াতের জন্য বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের সব লঞ্চযাত্রীরা সদরঘাট টার্মিনালটি ব্যবহার করে থাকে। ঈদের সময় নৌপথের যাত্রীদের চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে গুলিস্তান থেকে সদরঘাটমুখী সড়কে প্রচ- যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই সদরঘাটমুখী যাত্রীদের চাপ কিছুটা কমানোর জন্য মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকায় বিকল্প লঞ্চঘাট তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়। এজন্য প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর এলাকায় বসিলা ও শিমুলিয়ায় বিকল্প দুটি ঘাট চূড়ান্ত করা হয়।’ ঈদের আগে আগামী ১৭ মার্চ থেকে এই দুটি ঘাট ব্যবহার চাঁদপুর, হাকিমুদ্দিন, ইলিশা, শরীয়তপুর ও গলাচিপা রুটের যাত্রীরা লঞ্চে যাতায়াত করতে পারবেন বলে জানান তিনি।     
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, ঈদের আগে ঢাকা নদীবন্দর থেকে ৫০-৬০ যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু ঈদের সময় এই লঞ্চর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। এ সময় ১০০-১২০টি লঞ্চ চলাচল করে। তাই সদরঘাটের যাত্রীদের চাপ নিয়ন্ত্রণে বসিলা ও শিমুলিয়া দুটি লঞ্চঘাট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর চকবাজার এলাকায় সোয়ারীঘাট থেকে বরিশাল ও শরিয়তপুরের কিছু যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে। পাশাপাশি পোস্তগোলার শ্মশানঘাট এলাকায় নতুন লঞ্চ টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে। নতুন টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শেষ হলে সদরঘাটের যাত্রীর চাপ কিছুটা কমে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বসিলা ঘাট থেকে চলবে ১২টি লঞ্চ
বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতরের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর মোহাম্মপুরের বসিলা ব্রীজ সংলগ্ন ঘাট হতে ৫টি রুটের লঞ্চযাত্রীদের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- হাকিমুদ্দিন, ইলিশা, চাঁদপুর, শরীয়তপুর, গলাচিপা নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চ এই ঘাট থেকে ছেড়ে যাবে।  
এর মধ্যে বসিলা-সদরঘাট-হাকিমুদ্দিন রুটের যাত্রীদের জন্য এমভি টিপু লঞ্চটি সকাল ৭টায় সদরঘাটের উদ্দেশে বসিলা ঘাট থেকে ছেড়ে আসবে। সকাল ৯টায় হাকিমুদ্দিনের উদ্দেশে সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাবে। একইভাবে বসিলা-সদরঘাট-ইলিশা রুটের যাত্রীদের জন্য এমভি টিপু-৬ লঞ্চটি সদরঘাটের উদ্দেশে বেলা ১২টায় বসিলা ঘাট থেকে ছেড়ে আসবে। পরে দুপুর আড়াইটায় ভোলার ইলিশা ঘাটের উদ্দেশে সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাবে। একই রুটের যাত্রীদের জন্য দ্বিতীয় লঞ্চ এমভি ইয়াদ-১ সদরঘাটের উদ্দেশে বিকেল সাড়ে ৫টায় বসিলা ঘাট ছেড়ে আসবে। পরে ভোলার ইলিশার উদ্দেশে সন্ধ্যা ৭টায় সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাবে।
এছাড়া বসিলা-সদরঘাট-চাঁদপুর-ঈদগা ফেরীঘাট-শরীয়তপুর রুটের যাত্রীদের জন্য এমভি ইমাম হাসান-৫ লঞ্চটি সদরঘাটের উদ্দেশে সকাল সাড়ে ৮টায় বসিলাঘাট ছেড়ে আসবে। পরে যাত্রী বোঝাই পরে দুপুর পৌনে ১২ টায় সদরঘাট থেকে চাঁদপুর হয়ে শরীয়তপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। বসিলা-সদরঘাট-চাঁদপুর রুটের যাত্রীদের জন্য এমভি ঈগল-৪ সদরঘাটের উদ্দেশে বেলা ১১টায় বসিলাঘাট ছেড়ে আসবে। পরে যাত্রী নিয়ে দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুরের উদ্দেশে সদরঘাট ছেড়ে যাবে। বসিলা-সদরঘাট-ফতুল্লা-গলাচিপা রুটের যাত্রীদের জন্য এমভি এমভি বোগদাদীয়া-১২ অথবা এমভি শরিয়তপুর-৩ লঞ্চটি দুপুর দেড়টায় সদরঘাটেরর উদ্দেশে বসিলাঘাট ছেড়ে যাবে। পরে যাত্রী বোঝাই করে বিকেল ৫টায় পটুয়াখালী গলাচিপার উদ্দেশে সদরঘাট ছেড়ে যাবে। এভাবে এই ৫টি রুটে আসা-যাওয়া মোট ১২ লঞ্চ চলাচল করবে সংশ্লিষ্টরা জানান।

শিমুলিয়া ঘাট থেকে চলবে ৬টি লঞ্চ
বিআইডব্লিউএর কর্মকর্তারা জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতরের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের চাপ নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর লঞ্চ টার্মিনালের বিকল্প হিসেবে কাঞ্চন ব্রীজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাটকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই ঘাট থেকে চাঁদপুর ও বরিশাল রুটের ৬টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করবে। এর মধ্যে এমভি সমতা এন্ড সমৃদ্ধি এক্সপ্রেস লঞ্চটি সকাল ৮টায় নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাটের উদ্দেশে শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে ছেড়ে আসবে। যাত্রাপথে ডেমরা লঞ্চঘাট ও কাঁচপুর ল্যান্ডিং স্টেশন হয়ে নারায়ণঞ্জে পৌঁছবে। পরে সকাল ১১টায় চাঁদপুরের উদ্দেশে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট ছেড়ে যাবে। একইভাবে দুপুর আড়াইটায় শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাটের উদ্দেশে চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসবে। এই লঞ্চের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা দিবা ২৫৪ জন, রাত্রি ১৯৫ জন।
এছাড়া চাঁদপুরের যাত্রীদের জন্য এমভি সমতা সমৃদ্ধি-১ লঞ্চটি সকাল সাড়ে ৯টায় নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট উদ্দেশে শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট ছেড়ে যাবে। যাত্রাপথে ডেমরা লঞ্চঘাট ও কাঁচপুর ল্যান্ডিং স্টেশন বিরতি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ পৌঁছবে। পরে যাত্রী বোঝাই করে দুপুর ১২টায় চাঁদপুরের উদ্দেশে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট ছেড়ে যাবে। একইভাবে বিকেল সাড়ে ৩টায় শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাটের উদ্দেশে চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসবে। এই লঞ্চের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা দিবা ৩৩৭ জন, রাত্রি ২২৭ জন। 
শিমুলিয়া-নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর-বরিশাল রুটের যাত্রীদের জন্য এমভি রাজারহাট-বি লঞ্চটি সকাল সাড়ে ৭টায় নারায়গঞ্জ লঞ্চঘাটের উদ্দেশে শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে ছেড়ে যাবে। যাত্রাপথে ডেমরা যাত্রাবিরতি দিয়ে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছবে। পরে যাত্রী বোঝাই করে সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুরের উদ্দেশে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে যাবে। চাঁদপুর থেকে সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। যাত্রাপথে কালিগঞ্জ ও হিজলা যাত্রাবিরতি দিবে লঞ্চটি। এই লঞ্চের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা দিবা ৫৬০ জন, রাত্রি ৫৬০ জন। এভাবে শিমুলিয়া-নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর ও বরিশাল রুটের আসা-যাওয়ায় মোট ৬টি লঞ্চ চলাচল করবে ।

প্যানেল হু

×