ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মনোয়ার হোসেন

প্রকাশিত: ২৩:৩৮, ১২ মার্চ ২০২৬

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

অমর একুশে বইমেলায় পছন্দের বই খুঁজছে তরুণীরা

চলছে আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস মাহে রমজান। দেখতে দেখতে অনেকগুলো দিন পেরিয়ে গেছে এ মাসের। কেটে গেছে তিন সপ্তাহ। আর মাত্র ক’দিন পর শেষ হবে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা। অতঃপর আকাশে ভেসে উঠবে এক ফালি তরমুজের মতো ঝকঝকে সোনালি রঙের চাঁদ। অন্তরীক্ষে ভাসমান সেই আভাময় চাঁদ দেখে বয়ে যাবে খুশির ফল্গুধারা। ঈদের আনন্দ আবাহনে  ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলেই যেন শামিল হবে একই নদীর বহমান ¯্রােতধারায়। 
সম্প্রীতির এই বাংলাদেশে ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’Ñ এই আপ্তবাক্যকে ধারণ করে মুসলিমদের সমান্তরালে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানরাও ভাগাভাগি করে নেবে উৎসবের সবটুকু নির্যাস। আর ঈদ উপলক্ষে এখন দারুণ ব্যস্ত শহর ঢাকা। বিশেষ করে পোশাক কেনাকাটাকে ঘিরে ভীষণ তৎপর নগরবাসী। অভিজাত শপিং মল থেকে নামি-দামি পোশাকের ব্র্যান্ডগুলোতে আসা রুচিশীল ও মানানসই পোশাকের জন্য ভিড় জমছে সকাল থেকে রাত অবধি। শাড়ি-গয়না, চুরি থেকে পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, ফতুয়াসহ রকমারি গড়নের পোশাক কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী। মধ্যবিত্ত কিংবা বিত্তবানরাও থেমে নেই ঈদকেন্দ্রিক নতুন পোশাকনির্ভর এই কেনাকাটার আয়োজনে। 
এদিকে নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে ছোট-বড় সকলের পোশাকসহ রকমারি পণ্যের পসরা নিয়ে ভ্যানের ওপর ও ফুটপাতে বসেছে ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো। এসব দোকানে সকলেই সাধ্যের ভেতর সংগ্রহ করছেন জামা-জুতাসহ ঈদুল ফিতর উদ্যাপনের নানা অনুষঙ্গ। সব মিলিয়ে বলা যায়, সকলে মিলে যেন অনাবিল আনন্দে মেতে ওঠার প্রহর গুনছেন। 
এবার আসি দেশের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক আয়োজনের কথায়। সাধারণত রোজার মাসে রাজধানীর শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে আসে স্থবিরতা। আকস্মিকভাবে দু-একটা নাট্য প্রদর্শনী কিংবা চিত্রকর্ম বা ভাস্কর্যে সজ্জিত শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর বাইরে মলিনতা ভর করে সংস্কৃতির ভুবনে। এবার বদলে গেছে প্রেক্ষাপট। ভাষা শহীদদের স্মৃতিতে নিবেদিত অমর একুশে বইমেলাকে ঘিরে ¯িœগ্ধ সুন্দর সরবতা বিরাজ করছে এই নগরে। দেখা মিলছে বই নিয়ে সংস্কৃতিমনা নাগরিকদের সৃজনশীলতার ভুবনে বিচরণের সুন্দরতম দৃশ্যকল্প। বইপ্রেমীদের হাতে হাতে ঘুরছে বইয়ের ব্যাগ। সেই ব্যাগে চড়ে গল্প-উপন্যাস, কবিতা, ভ্রমণ কাহিনী কিংবা ইতিহাস, রাজনীতি থেকে গবেষণাধর্মী বইগুলো পৌঁছে যাচ্ছে বইপ্রেমীদের বুক শেলফে। 
তাই তো গ্রন্থপাঠের মাঝে অবসরের আনন্দসন্ধানী মানুষেরা কৌতূহল নিয়ে ছুটে আসছেন প্রাণের মেলায়। ভাঁজখোলা মলাটের নতুন বইয়ের ঘ্রাণ ছড়ানো প্রাঙ্গণে ঢুঁ দিচ্ছেন আপন মননের উপযোগী গ্রন্থের সন্ধানে। চষে বেড়াচ্ছেন মেলার দুই ক্যানভাস সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি আঙিনার পাঁচ শতাধিক বই বিতানে। বিশেষ করে সৃজনশীল বইয়ের আঙিনা উদ্যান অংশের স্টলগুলোতে আনাগোনা করছেন পাঠকরা। নতুন বইয়ের পাশাপাশি তারা সংগ্রহ করছেন আগে পড়া হয়নিÑ এমন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ। 
এবার ১৮ দিনব্যাপী বইমেলার ১৫তম দিন ছিল বৃহস্পতিবার। বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের তথ্যানুযায়ী এদিন প্রকাশিত হয়েছে ৮২টি বই। আর এদিন পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ১৩৩৭টি নতুন বই। এই সহ¯্রাধিক বইয়ের মধ্যে সব ধরনের পাঠকের জন্যই রয়েছে বৈচিত্র্যময় বিষয়ের বই। তাই এখনই সময় বই কেনার। কারণ, ইতোমধ্যে চলে এসেছে প্রতিটি প্রকাশনীর নতুন বই। অন্যদিকে পাঠকখরা কাটিয়ে মেলায় ছড়িয়েছে সরবতা।   
এদিকে আজ শুক্রবার ছুটির দিনে পঞ্চম শিশু প্রহরে মেলার দুয়ার খুলবে সকাল ১১টায়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। চাইলেই পরিবারের ছোট্ট সদস্যকে নিয়ে চলে যাওয়া যেতে পারে প্রাণের মেলায়। বিচিত্র বিষয়ের শিশুতোষ গ্রন্থ সংগ্রহের পাশাপাশি পুতুলনাচ দেখা, বায়োস্কোপে চোখ রেখে চলমান ছবি নিয়ে গড়া গল্প শোনা, কিডস জোনে খেলায় মেতে ওঠাসহ বহুমুখী আনন্দের উৎস বিছিয়ে রাখা হয়েছে প্রাণের মেলায়।

প্যানেল হু

×