ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

সংসদ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:২৫, ১৩ মার্চ ২০২৬

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে নির্বাচিত হয়েছেন প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। অপরদিকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। 
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্পিকার পদে একটি মনোনয়ন উত্থাপিত হয় জাতীয় সংসদে। প্রস্তাব করেন বরগুনা-২ সংসদীয় আসনের সদস্য নুরুল ইসলাম এবং সমর্থন করেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম। প্রস্তাবটি সংসদে উত্তাপিত হলে সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপিতে থাকা তার দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 
নেত্রেকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার কাইসার কামালের নাম প্রস্তাব করেন নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন লক্ষ¥ীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন মিজান। ব্যারিস্টার কাইসার কামালকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করার জন্য সংসদে কণ্ঠভোটে দেওয়া হয়। কণ্ঠভোটে তিনি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হওয়ার পর সংসদের অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয়। এরপর নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে শপথ করিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সংসদ ভবনের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ করান রাষ্ট্রপতি। এরপর নতুন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়। 

মাইক বিভ্রাটে স্পিকার অধিবেশনে বিরতি 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রথমবার বক্তব্য দিতে গিয়ে মাইক বিভ্রাটের মুখে পড়েন নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এক পর্যায়ে জোহরের আজান শুরু হলে তিনি ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। তখন তাকে একটি হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করতে দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদের অধিবেশন আধাঘণ্টার বিরতি দেওয়া হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ান।
বিরতির পর বেলা ১২টা ৫৭ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার আসনে বসেন। দিনের কর্মসূচি শুরু করার আগে তিনি মাইক অন করলেও সেটি কাজ করছিল না। এতে সংসদ সচিব কানিজ মওলাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তৎপর হয়ে ওঠেন। বারবার মাইক পরীক্ষা করা হলেও সেটি সচল করা সম্ভব হয়নি। পরে স্পিকারের কাছে একটি হ্যান্ডমাইক দেওয়া হয়।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে না। সবাইকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আমার মূল মাইকটি কাজ করছে না, তাই হ্যান্ডমাইকে কথা বলছি। আশা করি শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হবে।’
হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে স্পিকার বলেন, ‘আমাকে নির্বাচিত করায় আমি সংসদের প্রত্যেক সদস্যের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ১৭ বছর পর আমরা একটি কার্যকর সংসদ পেয়েছি।’
এ সময় স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন দাঁড়িয়ে বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনার কোনো কথা শুনতে পাচ্ছি না।’ জবাবে স্পিকার বলেন, ‘ধৈর্য ধরুন, যান্ত্রিক ত্রুটি হয়েছে। দুই মিনিটের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে।’ এর মধ্যেই জোহরের আজান শুরু হলে স্পিকার ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।

পাঁচ সদস্যের সভাপতিম-লীর মনোনয়ন 
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের বৈঠক পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সভাপতিম-লী মনোনয়ন করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি এ সভাপতিম-লী ঘোষণা করেন।
স্পিকার যে পাঁচজন সংসদ সদস্যকে সভাপতিম-লীর সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন তারা হলেন-মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং এটিএম আজহারুল ইসলাম। স্পিকার জানান, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের বৈঠকে সভাপতিম-লীর তালিকায় যার নাম শীর্ষে থাকবে তিনিই স্পিকারের আসনে বসে অধিবেশন পরিচালনা করবেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে সভাপতিম-লী মনোনয়নের বিধান রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে প্রত্যেক অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে অনধিক পাঁচজনকে নিয়ে একটি সভাপতিম-লী গঠন করবেন এবং তাদের নাম প্রাধান্যক্রমে সাজাবেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে বৈঠকে উপস্থিত সভাপতিম-লীর তালিকায় যার নাম শীর্ষে থাকবে তিনি সভাপতির আসন গ্রহণ করবেন।

প্যানেল হু

×