ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে বৃহস্পতিবার তাঁত ঐতিহ্য শীর্ষক প্রদর্শনী ও মেলায় তাঁতের বুনন দেখছেন অতিথিরা
খুব বেশি দেরি নেই। আসছে খুশির ঈদ। ঈদ আনন্দের প্রধানতম অনুষঙ্গ হচ্ছে নতুন পোশাক। আর নারী-পুরুষের পরিধেয় সেই বস্ত্রটি যদি হয় স্বদেশের তাঁতিদের তৈরি তবে সেই পোশাকের মাঝে মিশে থাকে নিজস্বতা। মিশে থাকে আপন কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে আলিঙ্গনের স্বকীয় গল্প। ঈদের নতুন পোশাক নিয়ে তেমনই এক স্বকীয়তার সন্ধানী মেলা চলছে ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে। এ মেলার বিভিন্ন স্টলে ঠাঁই পেয়েছে রকমারি রং ও নকশার বুননে গড়া বৈচিত্র্যময় ও আরামদায়ক শাড়ি। সঙ্গে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ওড়না, হাতব্যাগ, লুঙ্গি, গামছা, ফতুয়া, পাঞ্জাবিসহ নানা পণ্য। স্টলের পাশাপাশি এসব পণ্য নান্দনিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে প্রদর্শনালয়ে। অন্যদিকে একই আবার একই আঙিনায় দেখা মিলছে সুতোয় গাঁথায় তাঁতির বোনার সুন্দরতম দৃশ্যচিত্র।
তাঁতবস্ত্র পরিধান করুন, তাঁতিদের উৎসাহিত করুনÑ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত আয়োজনটির শিরোনাম বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প প্রদর্শনী ও মেলা। যৌথভাবে এই মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। নয়দিনব্যাপী এই মেলা চলবে আগামী ১৬ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা বারোটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মেলা ও প্রদর্শনীটি বেঙ্গল শিল্পালয়ের বিভিন্ন তলায় বিন্যস্ত করা হয়েছে। সেই কামরুল হাসান গ্যালারিতে চলছে তাঁত বস্ত্রের ঐতিহ্য এবং ইতিহাসের ওপর একটি কিউরেটেড প্রদর্শনী । এতে প্রতœতাত্ত্বিক প্রমাণ, ঐতিহাসিক দলিল এবং বিভিন্ন ছবির মাধ্যমে তাঁতশিল্পের বিবর্তন মেলে ধরা হয়েছে।
সরাসরি তাঁতিদের পণ্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে ১৫টি বিশেষায়িত স্টল নিয়ে বসেছে এই মেলা। এখানে ঠাঁই পেয়েছে জামদানি, কাতান, মণিপুরী, টাঙ্গাইল শাড়ি, সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি, কুমিল্লার খাদি, কুমারখালীর চাদর, রাজশাহীর সিল্ক ও পাহাড়ি অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় পোশাক।
বিশেষ প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে ঢাকাই মসলিনের পুনর্জন্মের বৃত্তান্ত। এ প্রদর্শনীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো বিলুপ্তপ্রায় ‘ফুটি কার্পাস’ তুলা থেকে তৈরি ঢাকাই মসলিনের পুনরুজ্জীবনের বয়ান। এদে ফুটি কার্পাস তুলা চাষের ইতিহাস, চরকায় সুতা কাটা এবং মসলিন বুননের জীবন্ত প্রদর্শনী মুগ্ধ করছে দর্শকদের । এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার ‘লুম অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ খ্যাতির ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনীটির কিউরেটর শাওন আকন্দ জানিয়েছেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো শহরের মানুষের সঙ্গে আমাদের গ্রামীণ তাঁতশিল্পের যোগসূত্র স্থাপন করা। কয়েক হাজার বছরের পুরানো এই শিল্পের প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং কারিগরদের দক্ষতার সঙ্গে নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং সাধারণ জনগণের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য।
প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ রবিবার দুপুরে এই মেলা ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম। সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি।
প্যানেল হু








