ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

তরুণদের গ্রাস করছে মাদক, উদ্বেগ বাড়ছে জামালগঞ্জে

আব্দুস সালাম, সুনামগঞ্জ   

প্রকাশিত: ২৩:৪০, ১২ মার্চ ২০২৬

তরুণদের গ্রাস করছে মাদক, উদ্বেগ বাড়ছে জামালগঞ্জে

ছবি: জনকণ্ঠ

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় মাদকের ভয়াল থাবা এখন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। এক সময়কার শান্ত এই জনপদে এখন হাতের নাগালেই মিলছে ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মরণনেশা। পাড়া মহল্লার মোড় থেকে শুরু করে হাট-বাজার ও প্রত্যন্ত এলাকায় নেশাজাতীয় দ্রব্যের এই সহজলভ্যতা স্থানীয় অভিভাবকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে মাদক সিন্ডিকেটগুলো। উপজেলার সদর সাচনাবাজার, বেহেলী, মন্নানঘাট, গজারিয়া, রামনগর, নোয়াগাঁও, লক্ষীপুর ও আটগাঁও লালবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাদকের কারবার জমজমাট হয়ে উঠেছে। এমনকি ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় মোটরসাইকেল কিংবা ইজিবাইক ব্যবহার করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এসব বিষ। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু পানের দোকানেও এখন গোপনে বিক্রি হচ্ছে নেশার সামগ্রী।

বর্তমানে এই মাদক জালে কেবল নিম্নবিত্ত নয়, বরং উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানরাও জড়িয়ে পড়ছে। উদীয়মান তরুণ ও ছাত্রসমাজের একটি বড় অংশ এখন নেশার ঘোরে আচ্ছন্ন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক ব্যবসায়ীদের বয়স অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ থেকে পঁয়ত্রিশ বছরের মধ্যে। নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী মহলের অর্থায়নে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটগুলো সাধারণ যুবকদের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। নেশার টাকা জোগাতে গিয়ে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রব ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই পরিস্থিতির জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যুবসমাজ ধ্বংস হওয়া মানে একটি জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের অভিযানে অভিযুক্তরা ধরা পড়লেও আইনি জটিলতার সুযোগ নিয়ে দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই ব্যবসায় লিপ্ত হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, মুখ দেখে নয় বরং অপরাধের গভীরতা বুঝে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বন্দে আলী জানান, মাদক ও জুয়ার সঙ্গে কোনো আপস নেই। পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনছে। মাদকের এই আগ্রাসন রুখতে তিনি কেবল পুলিশের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি পরিবার ও সমাজকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

শহীদ

×