ছবি: জনকণ্ঠ
মাত্র ২০ হাজার টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারায় দীর্ঘ তিন মাস কারাবন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন মঙ্গল দাস।সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের মানবিক হস্তক্ষেপে বকেয়া বিল পরিশোধের নিশ্চয়তা পাওয়ায় আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। মঙ্গল দাস সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন কেওয়াছড়া চা বাগানের বিরশা দাসের ছেলে।
কারাগার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ আদালত মঙ্গল দাসকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই থেকে তিনি কারান্তরীণ ছিলেন। টাকার অভাবে বিল পরিশোধ বা আইনি সহায়তা নিতে না পারায় তাঁর মুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম নিয়মিতভাবে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করতে যান। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মঙ্গল দাসের সাক্ষাৎ হয় এবং তিনি তাঁর অসহায়ত্বের কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে মঙ্গল দাসের জামিন ও বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বিদ্যুৎ আদালতের কাছে মঙ্গল দাসের বকেয়া বিল পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদান করে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে সিলেটের বিদ্যুৎ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা ও দায়রা জজ) বৃহস্পতিবার মঙ্গল দাসের জামিন মঞ্জুর করলে তিনি কারামুক্ত হন। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আবেগাপ্লুত মঙ্গল দাস জেলা প্রশাসকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, টাকার অভাবে বের হতে পারছিলাম না, পরিবারও খুব কষ্টে ছিল। ডিসি স্যার আমার পাশে না দাঁড়ালে হয়তো আরও অনেকদিন জেলে পচতে হতো।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে মঙ্গল দাসের বিষয়টি জেনে অত্যন্ত মানবিক মনে হয়েছে। একজন মানুষের ক্ষুদ্র অংকের বিলের জন্য দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকা দুঃখজনক। তাই বকেয়া বিল পরিশোধের দায়িত্ব নিয়ে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শহীদ








