ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের তিন শর্ত

সিফাত উল্লাহ

প্রকাশিত: ২৩:৩৭, ১২ মার্চ ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের তিন শর্ত

ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে একসঙ্গে শতাধিক রকেট ছোড়ে হিজবুল্লাহ

তিন শর্তে যুদ্ধ বন্ধ করবে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দেওয়া তিনটি শর্ত হলো ইরানের ন্যায্য অধিকারকে স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা। মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরান ড্রোন হামলার পরিকল্পনা করছে। সীমান্তবর্তী জলসীমায় অবস্থানরত জাহাজ থেকে এই হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা গোয়েন্দাদের।

এদিকে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে ১৫০টির বেশি রকেট ছুড়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এসব রকেট ছোড়া হয় বলে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বিধ্বংসী ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পরিস্থিতি এখন এমন যে, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন কোনটা ঠেকানো হবে আর কোনটা হবে না তা বেছে বেছে নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে ইরাকের জ্বালানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনায় দেশটির সব তেল বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর কার্যক্রম সচল রয়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। ইরানের নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথম টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছেন তিনি। খবর আলজাজিরা, তাসনিম নিউজ ও বিবিসির।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান এখনো আঞ্চলিক শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানের বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান জানান, তিনি রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে বর্তমান সংঘাত জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে শুরু হয়েছে বলে ইরান মনে করে। পেজেশকিয়ান বলেন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আমি এই অঞ্চলে শান্তির প্রতি ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।

এই যুদ্ধ জায়নবাদী শাসন ব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেছে। এটি শেষ করার একমাত্র উপায় হলো ইরানের বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া, ক্ষতিপূরণ প্রদান করা এবং ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না হওয়ার জন্য শক্ত আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা। ইরানে মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিশোধ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার পশ্চিম উপকূলে ড্রোন হামলা চালাতে পারে তেহরান, ক্যালিফোর্নিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া এফবিআইয়ের এক সতর্কবার্তায় এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। 
গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়, মার্কিন উপকূলে অবস্থানরত কোনো অপরিচিত জাহাজ থেকে ড্রোন ব্যবহার করে অজানা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে তেহরান। গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, হামলার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম অনেক আগে থেকেই সেখানে মজুত করা হয়েছে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে এই সতর্কতা জারি করা হয়। সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকায় ইরানের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে মেক্সিকোর মাদক চক্রগুলোর ড্রোন ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন সীমান্ত ও সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরান-সমর্থিত হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম সম্ভাব্য এই হুমকি মোকাবিলায় জরুরি সেবা দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন বলে নিশ্চিত করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে এফবিআই কার্যালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীটি উত্তর ইসরাইলের হাইফা এবং কিরিয়াত শমনা লক্ষ্য করে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শতাধিক রকেট ছুড়েছে। হিজবুল্লাহর এই আকস্মিক রকেট বৃষ্টিতে ল-ভ- হয়ে গেছে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের একাধিক বসতি।

এদিকে বুধবার রাতে লেবাননজুড়ে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। বৈরুত, দাহিহ, দক্ষিণাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকায় একযোগে আক্রমণ করে নেতানিয়াহুর সামরিক বাহিনী। হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার নামে চালানো এই আগ্রাসনে প্রাণ গেছে অনেকের। ইরানেও হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। দেশটির মারিভান শহরে ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এ ছাড়া এদিন হামলা হয়েছে রাজধানী তেহরানেও। জবাবে ইসরাইলের হাইফা, পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান।

সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গেই হাজার হাজার ইসরাইলি নাগরিককে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে দেখা গেছে। ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে ওমানের সালালাহ বন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। এর পর পরই জ্বালানি ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের খবর পাওয়া গেছে। এদিন আরব আমিরাত ও বাহরাইনের আকাশে ইরানের দিক থেকে ধেয়ে যাওয়া কয়েকশ’ মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহতের দাবি করেছে দেশগুলোর প্রতিরক্ষা বাহিনী। সৌদি আরবের শায়বাহ তেল ক্ষেত্র লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা হয়েছে। সেগুলো সফলভাবে প্রতিহত করার দাবি করেছে রিয়াদ। যুদ্ধের জেরে থমকে গেছে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। ওমান উপকূলে কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি থাই জাহাজের বেশ কয়েক নাবিককে উদ্ধার করে ওমানের নৌবাহিনী।
বৃহস্পতিবার ইরাকের বসরা প্রদেশের আল-ফাও বন্দরে দুটি বিদেশি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হন। ওই হামলায় আরও ৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরাকি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র। ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএনএ জানিয়েছে, নিখোঁজ অন্যদের সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। এর আগে ইরাকি বন্দর নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছিল, ইরাকি জ্বালানি তেলবাহী দুটি বিদেশি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরক বোঝাই বোটের সাহায্যে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ট্যাঙ্কার দুটিতে আগুন ধরে যায়।

আইএনএর প্রতিবেদন অনুযায়ী আল-ফারতুসি বলেন, একটি ট্যাঙ্কারে জ্বালানি পণ্য ভরার কাজ চলার সময় সেটি হামলার শিকার হয়। তিনি আরও জানান, আক্রান্ত ছোট ট্যাঙ্কারগুলোর একটি মাল্টার পতাকাবাহী ছিল। জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে এটি সরাসরি হামলা নাকি দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরকবাহী বোটের (সুইসাইড বোট) মাধ্যমে ঘটানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আল ফারতুসি জানান, আক্রান্ত হওয়ার সময় ট্যাঙ্কারগুলো ইরাকি উপকূল থেকে প্রায় ৩০ মাইল বা ৪৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।

চলমান সংঘাতের ১৩তম দিনে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরানের সেনাবাহিনীর বিশেষ শাখা ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। নতুন করে ইসরাইলের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দফতর ও দেশটির দুটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা করেছে ইরান। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরাইলের দুটি বিমান ঘাঁটি ও তেলআবিবে অবস্থিত দেশটির নিরাপত্তা সংস্থার সদর দপ্তর শিনবেতে ড্রোন দিয়ে হামলা করা হয়েছে। 
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানায়, ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে ইয়াভনে শহরের পশ্চিমে অবস্থিত পালমাচিম বিমান ঘাঁটি এবং দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে অন্তত চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। তবে এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় জেরুজালেম, দক্ষিণ ও পশ্চিম তীরের কিছু অংশে সাইরেন বেজে ওঠে।

এদিকে ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান যুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৭৯ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের জন্য খুব ভালো খবর আছে। ইরান সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ইরান নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। বৃহস্পতিবার মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, ইরান প্রায় খাদের কিনারায় চলে এসেছে। এর মানে এই নয় যে আমরা এখনই যুদ্ধ শেষ করছি। তবে তারা শেষ হয়ে গেছে। তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই। তাদের কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা অন্য কিছু নেই।

তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অবশিষ্ট নেই। আমরা এখন ওই দেশটির ওপর দিয়ে মুক্তভাবে বিচরণ করছি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিনের হামলায়ই তিনি আহত হয়েছিলেন। ওই হামলায় তার পায়ের হাড় ভেঙে যায়, মুখম-লেও আঘাত পান। খবর অনুযায়ী, ৫৬ বছর বয়সী খামেনির বাম চোখের চারপাশে কালশিটে দাগ পড়েছে এবং মুখে কিছু ছোটখাটো জখমের চিহ্নও রয়েছে। এর আগে ইসরাইলের একটি সূত্র জানিয়েছিল, গত সপ্তাহে তাকে লক্ষ্য করে একটি হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে।

সেই ঘটনার পর থেকেই তার আহত হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। সাইপ্রাসে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা সালারিয়ান ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানকে বলেন, যে বিমান হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং সেই একই হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হন। ওই হামলায় খামেনি পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য নিহত হন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার তিনি গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান লড়াই চালিয়ে যাবে। সব শহীদের রক্তের বদলা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ইয়েমেন ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইসলামি বিপ্লবকে সমর্থন করে। নির্দেশনা পেলেই তারা তাদের অ্যাকশন শুরু করবে। 
খামেনি বলেন, ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধারাও তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি আরও বলেন, ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও ইসলামি বিপ্লবকে সাহায্য করতে চায়। এর আগে তিনি ইরানের সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশ যখন হামলার শিকার হয়েছে তখন এই বাহিনীই ইরানকে পরাধীন হওয়া বা বিভক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করেছে। তিনি বলেন, আমি সেই সাহসী যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা আমাদের দেশ যখন চাপের মুখে এবং হামলার শিকার তখন দুর্দান্ত কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে খামেনি বলেনÑ ইরান প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, কিন্তু মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত রাখবে। ইরানি বাহিনী কেবল মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করছে, যা তারা অব্যাহত রাখবে।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, এই অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এই অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত, অন্যথায় সেগুলোতে হামলা চালানো হবে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর ৩২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এই তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সারা দেশে বাস্তুচ্যুত পরিবারের ওপর চালানো প্রাথমিক এক জরিপের ভিত্তিতে তারা এই হিসাব তৈরি করেছে। এক বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর বলেছে, যুদ্ধ চলমান থাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

প্যানেল হু

×