ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

রমজানে জোড়া গ্রহণ মানেই কি কিয়ামত বা ইমাম মাহদীর আগমন? কী বলছে ইসলাম

প্রকাশিত: ২০:৫৯, ১৩ মার্চ ২০২৬

রমজানে জোড়া গ্রহণ মানেই কি কিয়ামত বা ইমাম মাহদীর আগমন? কী বলছে ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই আকাশে বিরল দুটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ঘটায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, এই জোড়া গ্রহণ নাকি ইমাম মাহদীর আগমনের পূর্বলক্ষণ। তবে আলেম সমাজ ও বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব দাবির পেছনে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা–র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর প্রাক্কালে একটি বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হয়। এরপর মাত্র ১৪ দিনের ব্যবধানে ৩ মার্চ ঘটে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, যা ব্লাড ওয়ার্ম মুন নামে পরিচিত।

চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় সম্পূর্ণ ঢেকে গিয়ে তামাটে লাল রঙ ধারণ করে। ৩ মার্চের এই চন্দ্রগ্রহণ বাংলাদেশ থেকেও দেখা গেছে।

এই দুটি ঘটনা রমজান মাসে কাছাকাছি সময়ে ঘটায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ এটিকে ইমাম মাহদীর আগমনের প্রমাণ হিসেবে প্রচার করছেন। আবার অনেকেই বিভিন্ন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়াচ্ছেন। তবে আলেম সমাজ ও বিজ্ঞান সচেতন মহল এসব দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে সতর্ক করছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি দাবিতে বলা হচ্ছে, সুনানে দারাকুতনি গ্রন্থে উল্লেখ আছে—রমজানের প্রথম রাতে চন্দ্রগ্রহণ এবং মাঝামাঝি সময়ে সূর্যগ্রহণ ঘটবে, যা নাকি ইমাম মাহদীর আগমনের লক্ষণ।

তবে হাদিস বিশারদদের মতে, এই বর্ণনাটি অত্যন্ত দুর্বল। কারণ এর সনদে থাকা বর্ণনাকারীদের মধ্যে আমর ইবন শিমর ও জাবির আল-জুফি–র মতো ব্যক্তিদের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অনেক মুহাদ্দিসই তাদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য মনে করেননি। এমনকি ইমাম বুখারি ও ইমাম আবু হানিফা–র মতো বিশিষ্ট আলেমদের কাছেও এ ধরনের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।

এছাড়া বর্ণনায় উল্লেখিত সময়সূচিও জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অসম্ভব। কারণ চন্দ্রগ্রহণ ঘটে কেবল পূর্ণিমার রাতে, আর সূর্যগ্রহণ ঘটে অমাবস্যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের জোড়া গ্রহণ প্রতি প্রায় ২২ থেকে ২৩ হিজরি বছর পরপর ঘটতে পারে। অতীতে ১৯৮২ এবং ২০০৩ সালেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল।

ইতিহাসে দেখা যায়, ১৮৯৪ সালে এই ধরনের জোড়া গ্রহণকে কেন্দ্র করে মির্জা গোলাম আহমদ নিজেকে ইমাম মাহদী দাবি করেছিলেন। তবে তৎকালীন আলেম সমাজ তার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে আরও একটি গুজব ছড়ানো হয়েছে যে ১২ আগস্ট পৃথিবীর সব মহাকাশীয় শক্তি সাত সেকেন্ডের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। তবে নাসা এ দাবিকে সরাসরি মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইসলামী শিক্ষায় সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণকে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, সূর্য বা চন্দ্র কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে গ্রহণ হয় না। গ্রহণের সময় মুসলমানদের ভয় না পেয়ে নামাজ আদায় ও দোয়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য সালাতুল কুসুফ ও সালাতুল খুসুফ আদায় করা সুন্নত।

নুসরাত

×