ছবি: সংগৃহীত
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী খালাফ আহমদ আল-হাবতুর এক বিস্ফোরক খোলাচিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ইসরায়েলের সাথে আঁতাত করে ইরানে আকস্মিক হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য যেভাবে অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে, তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে আল-হাবতুর প্রশ্ন তুলেছেন—কিসের ভিত্তিতে এবং কার অনুমতিতে এমন মারাত্মক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। ট্রাম্পের তথাকথিত শান্তি উদ্যোগের কালি শুকানোর আগেই এই যুদ্ধ শুরু হওয়াকে তিনি প্রজ্ঞাহীন নেতৃত্বের পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
৩০০ কোটি ডলারের মালিক আল-হাবতুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের আঁচ কেবল ইরানে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আরব আমিরাতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অস্তিত্বের ওপর আঘাত হানছে। তাঁর মতে, যুদ্ধের বিস্তৃতি ঘটলে সবার আগে পুড়ে মরবে উপসাগরীয় দেশগুলো। ট্রাম্পের প্রতি তাঁর প্রশ্ন—এই যুদ্ধ কি আমেরিকার একক সিদ্ধান্ত, নাকি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর চাপিয়ে দেওয়া পরিকল্পনা। এই বিরল প্রতিবাদ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ব্যবসায়িক স্বার্থে বড় ধরনের টান পড়ায় আমিরাতের নীতিনির্ধারকরাও এখন ট্রাম্পের ওপর চরম অসন্তুষ্ট।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধ বিশ্বের জন্য চারটি বড় হুমকি তৈরি করেছে:
জ্বালানি সংকট: হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাতার ও সৌদি আরব ইতিমধ্যে সরবরাহ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।
বৈশ্বিক মন্দা: চীন, ভারত ও জাপানের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর উৎপাদন খাত মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
জাতীয় তহবিলের ঝুঁকি: উপসাগরীয় দেশগুলোর ৪ লাখ কোটি ডলারের জাতীয় সম্পদ তহবিল এখন লিকুইডেশনের ঝুঁকিতে।
বিনিয়োগ প্রত্যাহার: সৌদি আরব ও আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে, যা মার্কিন পুঁজিবাজারে ধস নামাতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সেই ভয়াবহ মন্দাস্ফীতির সঙ্গে তুলনা করছেন। তেলের ওপর অতিনির্ভরশীলতা এবং বিনিয়োগের নিরাপদ স্থান হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের আস্থায় বড় ধাক্কা লাগায় ছোট-বড় কোনো দেশই এই অর্থনৈতিক সুনামি থেকে রেহাই পাবে না।
মার্কিন গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ট্রাম্প এই যুদ্ধে জড়িয়ে এখন নিজেই ফেঁসে গেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে, অন্যদিকে ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন—এই অস্পষ্টতা তেলের বাজারকে আরও অস্থির করছে। ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক টাকার কার্লসনও মন্তব্য করেছেন যে, সাধারণ মানুষ এই যুদ্ধ চায় না এবং আগামী নির্বাচনে এর কঠিন প্রতিফলন দেখা যাবে।
এফএ








