ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

আজই সিরিজ নিশ্চিত করতে চায় টাইগাররা

শাকিল আহমেদ মিরাজ

প্রকাশিত: ২২:৪৮, ১২ মার্চ ২০২৬

আজই সিরিজ নিশ্চিত করতে চায় টাইগাররা

মিরপুর শেরেবাংলায় বাংলাদেশ দলের অনুশীলনেও সবার মধ্যমণি পেসার নাহিদ রানা

ভারতে টি২০ বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হতাশা সঙ্গী করে পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে প্রায় তিন মাস পর ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত সিরিজের ফল কি হবে, সময়েই মিলবে সেই উত্তর। তবে শুরুটা হয়েছে আশা জাগানিয়া। মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটের দাপুটে জয়ে প্রতিপক্ষকে ¯্রফে উড়িয়ে দিয়েছে টাইগাররা। স্বভাবতই খুশি অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ জানিয়েছেন, টানা দুই জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করাই তাদের পরবর্তী লক্ষ্য।

আর রেকর্ড ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা স্পিডস্টার নাহিদ রানার লক্ষ্য, এভাবেই দলের জন্য অবদান রাখা। অন্যদিকে মাত্র ১১৪ রানে অলআউটের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া পাকিস্তান। সফরকারি কোচ মাইক হেসন বলেছেন,‘যেভাবে হোক এখান থেকে উত্তোরণের পথ খুঁজতে হবে।’ নিজেদের সেরাটা দিয়ে জ্বলে উঠতে হবে সবাইকে। মিরপুরে আজও খেলা শুরু দুপুর সোয়া দুইটায়।
গত দেড় বছর টি২০তে দারুণ সময় কেটেছে বাংলাদেশের। কিন্তু ভারতের ভূরাজনীতির ফাঁদে পড়ে বিশ্বকাপটাই খেলা হয়নি! অবর্ণনীয় সেই হতাশা পেরিয়ে তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, পাঁচ মাস পর ওয়ানডে। তার ওপর গত মৌসুমে পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে চরম ব্যর্থতা তো ছিলই। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার চ্যালেঞ্জ। এ জন্য আগামী বছর মার্চের মধ্যে উঠে আসতে হবে র‌্যাঙ্কিংয়ের দশ থেকে আট নম্বরে। এই সিরিজ দিয়েই শুরু হচ্ছে সেই কাউন্ট ডাউন।

কিন্তু শুরুটা হয়েছে মনে রাখার মতো। স্বাগতিকদের সাঁড়াশি বোলিংয়ের মুখে ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট শাহিন শাহ আফ্রিদির পাকিস্তান। জবাবে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের (৪২ বলে অপরাজিত ৬৭) দারুণ ব্যাটিংয়ে ১৫.১ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের উল্লাসে মাতে টাইগাররা। ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে নাহিদ রানা গড়েন পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড।  আগের সেরা ছিল মুস্তাফিজুর রহমানের ৭৫ রানে ৫ উইকেট, ২০১৯ সালে, লর্ডসে। এছাড়া ১১৪/১০ ওয়ানডেতে এটাই বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড।

অধিনায়ক মিরাজ বলেছেন,‘অনেকদিন পর ওয়ানডে খেলতে নেমে এমন পারফর্ম্যান্স আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তবে তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। পাকিস্তান শক্তিশালী। দ্বিতীয় ম্যাচে সেরাটা দিয়েই সিরিজ জিততে চাই।’ অন্যদিকে ব্যাটিং লাইন আপে চার অভিষিক্তকে নিয়ে একাদশ সাজায় পাকিস্তান। তাদের দুজন সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত স্থিতধী শুরু এনে দেন দলকে। প্রথম ৯ ওভারে উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। 
এরপর নাহিদের হাতে বল তুলে দেন মিরাজ। বাকিটা ইতিহাস। পাকিস্তান কোচ হেসন যেমন বলছেন,‘উইকেট ভালো ছিল, আমার মতে এটা (উইকেট) ভালো আচরণ করেছে। নাহিদ রানা অসাধারণ ছিল। সে বোলিংয়ে আসার আগ পর্যন্ত আমরা ঠিকঠাকই এগোচ্ছিলাম। সে এসে খেলাটা বদলে দিয়েছে। নাহিদ বোলিংয়ে বৈচিত্র্য ছিল এবং তার গতিতে এটাই প্রত্যাশিত। আমাদের যেমন জবাব দেওয়ার কথা ছিল, সেটা দিতে পারিনি। তাই পুরোটাই নাহিদের কৃতিত্ব।’ তিনি যোগ করেন,’লজ্জা করে কোনো লাভ নেই, বলতেই হবে এটা খুব হতাশাজনক ব্যাটিং পারফর্ম্যান্স। শুধু তরুণরাই যে বাজে খেলেছে এমন নয়, ভালো বোলিংয়ের সামনে আমাদের দক্ষতাগুলো কাজে আসেনি এবং আমরা খোলসে আবৃত হয়ে গিয়েছিলাম।

আমাদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে।  তরুণদের শিখতে হবে এবং তাদের শেখার ও বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। আমরা চাই, তারা অভিষেকেই সেঞ্চুরি করে ফেলুক, কিন্তু আসলে তাদের কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাই পরের ম্যাচগুলোতে আমাদের ধৈর্য দেখাতে হবে এবং ভালোভাবে লড়াই করতে হবে। এই পারফর্ম্যান্স নিয়ে একটু ভাবতে হবে। আমরা খারাপ ছিলাম তা অস্বীকার করব না, ব্যাটিংয়ে আমরা খোলসে ঢুকে গিয়েছিলাম। শুধু তরুণরাই নয়, আমাদের সবাইকে দাঁড়াতে হবে এবং ব্যাটিংয়ে ভালো পারফর্ম্যান্স দিতে হবে। পরের দুই ম্যাচে সেটাই চেষ্টা থাকবে।’

প্যানেল হু

×