মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরান–ইসরাইল যুদ্ধের উত্তেজনা থাকলেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করে যাচ্ছেন। আমিরাত সরকারের জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রবাসীরা নির্ভয়ে এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ কমিউনিটির আয়োজনে এক বিশাল ইফতার মাহফিলে কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিকে একত্রিত হতে দেখা যায়। এই আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের উত্তেজনা বিরাজ করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত দেশটিতে বসবাসরত নাগরিক ও প্রবাসীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ফলে আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝেও যুদ্ধ নিয়ে তেমন উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে না। তারা স্বাভাবিকভাবেই দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ কমিউনিটির উদ্যোগে আজমান শহরের উম্মুল মোমেনীন অ্যাসোসিয়েশনের হলরুমে এক বিশাল ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ শ্রমিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজক মইনুল আলম হাদী বলেন, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ধর্মীয় অনুভূতি জাগ্রত করা, প্রবাসীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করা এবং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি সংস্কৃতি তুলে ধরা। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে ইসলামিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারণা পৌঁছে দেওয়াও এর লক্ষ্য। তারা আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেও আমিরাত সরকার প্রবাসীদের যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, এই আয়োজন তারই একটি উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে দুবাই প্রশাসনের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নিরাপত্তার জন্য কমিউনিটি পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করে। এ সময় শিশুদের কোরআন তেলাওয়াত, ইসলামিক জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় “আস্তা”। বিদেশি অতিথিরাও বাংলাদেশের এমন আয়োজনের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠান উপস্থিত ছিলেন মুল উদ্যোক্তা প্রোকৌশলী মইনুল আলম সাদি। সহযোগীতায় ছিলেন মোঃ বুলবুল আহমেদ মুকুল, হাসান জাকির, সৈয়দ আরিফ, সুমন আহমেদ, মোবাশ্বের ইবাদ, আনিস আহমেদ, দেওয়ান হাবিব, জায়েদ হোসেন, ডাঃ সাজ্জাদ এবং তাঁদের সহধর্মিণীসহ আরও অনেকে।
রাজু








