ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।
ইউরোপের দেশ ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের কাছে রমজান মাস একটি বিশেষ সময়। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকলেও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে যথাযথ মর্যাদায় রমজান পালন করার চেষ্টা করেন তারা। ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন আবহাওয়া এবং দীর্ঘ সময়ের রোজা—সবকিছুর মধ্যেও প্রবাসীরা রমজানের আবহ ধরে রাখার চেষ্টা করেন।
ইতালির রাজধানী রোম, অর্থনৈতিক কেন্দ্র মিলান, তুরিন, বোলোনিয়া, নাপোলি ও ভেনিসসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের পাশাপাশি পাকিস্তান, মরক্কো, তিউনিসিয়া, মিশর ও আলবেনিয়া থেকে আসা মুসলমানরাও এখানে রমজান পালন করেন।
রমজান মাস শুরু হলে প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে আসে কিছু পরিবর্তন। ভোরের আগে সাহরি খেয়ে অনেকেই কাজে বের হয়ে পড়েন। কেউ রেস্টুরেন্টে কাজ করেন, কেউ কারখানায়, কেউবা ছোট ব্যবসা বা দোকানে। কর্মব্যস্ততার মাঝেও তারা রোজা রেখে দায়িত্ব পালন করেন এবং সুযোগ পেলেই নামাজ আদায়ের চেষ্টা করেন।
ইতালিতে গ্রীষ্মকালের দিকে রমজান পড়লে রোজার সময় তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ হয়। অনেক সময় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত রোজা রাখতে হয়। ফলে কর্মজীবী প্রবাসীদের জন্য এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধৈর্যের মাধ্যমে তারা তা পালন করেন।
সূর্যাস্তের সময় হলে শুরু হয় ইফতারের প্রস্তুতি। প্রবাসী বাংলাদেশিরা সাধারণত খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভাঙেন। এরপর ইফতারের টেবিলে থাকে ছোলা, সামোসা, পাকোড়া, বেগুনি, ফল, খিচুড়ি কিংবা ভাত-তরকারি। অনেক সময় স্থানীয় ইতালিয়ান খাবার যেমন পাস্তা বা পিজ্জাও ইফতারের তালিকায় যুক্ত হয়। অনেক পরিবার আবার নিজ দেশের ঐতিহ্য ধরে রাখতে চেষ্টা করেন।
রমজান মাসে ইতালির বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে সম্মিলিত ইফতারের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে বড় শহরগুলোর মসজিদগুলোতে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, মরক্কানসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা একসঙ্গে বসে ইফতার করেন। এতে প্রবাসে থেকেও এক ধরনের পারিবারিক পরিবেশ তৈরি হয়।
ইফতারের পর মুসল্লিরা মসজিদে গিয়ে তারাবির নামাজ আদায় করেন। অনেক জায়গায় পুরো রমজানজুড়ে কোরআন তেলাওয়াত ও ধর্মীয় আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ধর্মীয় চর্চা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
প্রবাসীরা জানান, নিজের দেশ ও পরিবারের সঙ্গে রমজান কাটানোর অনুভূতি আলাদা হলেও বিদেশের মাটিতে একসঙ্গে ইফতার ও নামাজের মাধ্যমে তারা সেই শূন্যতা কিছুটা হলেও পূরণ করার চেষ্টা করেন। অনেক সময় বন্ধুবান্ধব বা সহকর্মীদের নিয়ে বাসায় ছোট পরিসরে ইফতারের আয়োজনও করা হয়।
ইতালির ভিন্ন সংস্কৃতি ও ব্যস্ত জীবনযাত্রার মাঝেও প্রবাসী মুসলমানরা ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বিশ্বাস ধরে রেখে রমজান পালন করছেন। তাদের কাছে এই মাস শুধু সংযমের নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ সময়।
এম.কে








