২০২৫ সালে ইউরোপের পর্যটন বাজারে নতুন করে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে ইতালি। পর্যটকের উপস্থিতি ও প্রবৃদ্ধির হিসেবে দেশটি ফ্রান্সকে পেছনে ফেলে ইউরোপের দ্বিতীয় শীর্ষ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে তালিকার শীর্ষে থাকা স্পেন এখনও বেশ এগিয়ে রয়েছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরে ইতালিতে মোট ৪৭৬.৮ মিলিয়নেরও বেশি পর্যটকের উপস্থিতি (Presences) রেকর্ড করা হয়েছে। পর্যটকদের রাতযাপন বা অবস্থানের সংখ্যাকে বোঝাতে এই ‘প্রেজেন্সেস’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এই বিশাল সংখ্যাই ইউরোপের পর্যটন মানচিত্রে ইতালির জনপ্রিয়তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
প্রবৃদ্ধির দিক থেকেও ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড়কে ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় পর্যটন প্রবৃদ্ধি ছিল ২.২ শতাংশ, সেখানে ইতালির প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২.৩ শতাংশে। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের আগমনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইতালিতে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা ৪.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি।
তবে ইতালির অভ্যন্তরীণ পর্যটনে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে। ইতালীয় নাগরিকদের নিজ দেশের ভেতরে ভ্রমণের হার গত বছরের তুলনায় ৩.৫ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ স্থানীয় পর্যটকদের ভ্রমণ কমলেও বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ ইতালির পর্যটন খাতকে শক্তিশালী রেখেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট বিদেশি পর্যটকদের ১৭.৬ শতাংশই গত বছর ভ্রমণের জন্য ইতালিকে বেছে নিয়েছেন। ঐতিহাসিক স্থাপনা, সমুদ্রতট, শিল্প–সংস্কৃতি এবং বিশ্বখ্যাত খাবারের জন্য ইতালি এখনও বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত।
তবে ইউরোপের পর্যটন বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে স্পেন। দেশটিতে গত বছরে ৫১৩ মিলিয়নেরও বেশি পর্যটকের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে। শুধু পর্যটকের সংখ্যাই নয়, আয়েও স্পেন এগিয়ে রয়েছে। স্পেনের পর্যটন খাতে আয় রেকর্ড ১৩৪ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে, যা ইতালির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটনের অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় প্যাকেজ তৈরির মাধ্যমে ইতালি আগামী বছরগুলোতে স্পেনের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করবে।
রাজু








