রাজধানীর সদরঘাট থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৪৫টি রুটে প্রতিদিন কয়েকশ লঞ্চ যাতায়াত করে। পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে কিছু জেলা প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হলেও দ্বীপ জেলা ভোলার ১৯ লাখ এবং হাতিয়ার সাড়ে ৪ লাখ মানুষ সরাসরি লঞ্চের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়াও বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ জেলার যাত্রীদের লঞ্চই প্রথম পছন্দ। জীবিত যাত্রীদের লঞ্চে অনায়াসে ঠাঁই হলেও মৃত যাত্রীদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। তাদের পরিশোধ করতে হয় কেবিনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া। অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধের পরেও লাশের জন্য নেই কোনো ফ্রিজিং ব্যাবস্থা। কখনো তাদের দড়ির সাথে বেঁধে ছাদে তুলে সারারাত খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা হয়। আবার কখনো তাদের জায়গা হয় নিচতলার ডেকে ইঞ্জিনের কাছে। এমনিতেই হিমঘর নেই, তার ওপর ইঞ্জিনের তাপে মৃতদেহে দ্রুত পচন ধরে। যা স্বজনদের জন্য খুবই হৃদয়বিদারক। অনেক সময় খোলা স্থানে লাশ পড়ে থাকতে দেখলে সহযাত্রীরা, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা ভয় পায়। তারা লাশের সহযাত্রী হতে অনীহা প্রকাশ করে। আবার কখনো মৃতের স্বজনরা সাথে করে বরফ নিয়ে এলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তা গলে গিয়ে পরিবেশ নষ্ট করে। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে এবং লাশের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে লঞ্চে ফ্রিজিং ব্যবস্থা তথা হিমঘর স্থাপনের বিকল্প নেই। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
প্যানেল/মো.








