আজকের শিক্ষার্থীরা কি প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করছে, নাকি শুধু মুখস্তবিদ্যা শিখছে? আগামী দিনে দেশের রাষ্ট্রপরিচালক যারা হবে, তারা যদি শুধুই মুখস্তবিদ্যা জানে, তবে দেশের নেতৃত্ব কতটুকু কার্যকর হবে- এটাই প্রশ্ন। বাংলাদেশ সকল দিকে উন্নতি করছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসার ঘটেছে। শিক্ষা ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু এই উন্নতির ছায়াতেও শিক্ষার্থীরা কি প্রকৃত দক্ষতা অর্জন করছে? দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাচ্ছে, অভিভাবক ও নীতিনির্ধারকরা তাতে সন্তুষ্ট। কিন্তু অন্যান্য উন্নত দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছে। কারণ, দেশের অনেক শিক্ষার্থী শুধু সিলেবাস মুখস্ত করে পরীক্ষা দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির পরীক্ষায় শুধু তাত্ত্বিক বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়। কি, কাকে বলে এসবেই সীমাবদ্ধ থাকে জ্ঞান। শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার ব্যবহার করার সুযোগ পায় না। এমনকি কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহারিক ল্যাব পর্যন্ত নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল চিন্তা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ বা বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান কল্পনা করতে শেখে না। অনেকে পরীক্ষায় নকলের আশ্রয় নেয়। আবার অনেকে বইয়ের পাতার লেখা মুখস্থ করে পরীক্ষায় লিখে ভালো ফল করে। একে বলা যায়, নকল মস্তিষ্কে ধারণ করা। এটি কখনই প্রকৃত শিক্ষা নয়। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কোনো বই বা প্রকল্প সমালোচনামূলকভাবে পড়তে শিখে না। যারা প্রশ্ন করে, তাদের প্রায়ই নিরুৎসাহিত করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজের জ্ঞান ব্যবহার করে সৃজনশীলভাবে লেখা বা চিন্তা করার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে না। যখন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন আসে, তারা ভীত হয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সমালোচনামূলক আলোচনায় অংশ নিতে গেলে অনেক শিক্ষার্থী ভীত হয়। কারণ তারা প্রস্তুত নয়।
এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কি শিক্ষার্থীদের ভাবতে শেখাব? নাকি শুধু মুখস্ত করতে দেব? যারা ভাবতে শিখে না, তারাই ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সমস্যার সম্মুখীন হবে। প্রকৃত শিক্ষা হলো কেবল নম্বর নয়; এটি হলো জ্ঞান, চিন্তা এবং সৃজনশীলতার সমন্বয়। যদি শিক্ষার্থীরা এ দক্ষতা অর্জন করে, তবে তারা দেশকে সমৃদ্ধ ও দক্ষভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবে।
প্যানেল/মো.








