না ফেরার দেশে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলেট মিমো
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলেট, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও বিকেএসপির সাবেক উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) শামিমা সাত্তার মিমো ইন্তেকাল করেছেন। শুক্রবার রাত ১১টায় ঢাকায় নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। দেশের অসংখ্য কৃতী ক্রীড়াবিদের কাছে তিনি ছিলেন পরম শ্রদ্ধেয় ও ভালোবাসার ‘মিমো ম্যাডাম’।
তিনি ছিলেন একাধারে প্রতিভাবান অ্যাথলেট, দক্ষ প্রশিক্ষক, বিচক্ষণ সংগঠক এবং সফল ক্রীড়া প্রশাসক। দেশের অ্যাথলেটিক্সকে এগিয়ে নিতে মাঠে যেমন দৌড়েছেন, তেমনি প্রশাসনিক দায়িত্বেও ছিলেন সমান সক্রিয় ও আন্তরিক। তার মৃত্যুতে ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অ্যাথলেটিকসে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পান মিমো।
এছাড়া সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি ও বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সেরা অ্যাথলেটের পুরস্কার। অনন্যা শীর্ষ দশ, ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক হিসেবে তিনি পেয়েছেন কবি নূরল আমিন স্বর্ণপদক। বাংলাদেশ নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের স্বর্ণপদকও পেয়েছেন সাবেক এই অ্যাথলেট। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা নিভৃতেই ইতিহাস গড়ে যান। আলোচনার ঝলকানির বাইরে থেকেও তাঁরা রেখে যান অনন্য এক উত্তরাধিকার। তেমনই এক নিবেদিত প্রাণ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ছিলেন শামিমা সাত্তার মিমু। রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সাবেক অ্যাথলেটের বিদায়ে আজ শোকাহত দেশের ক্রীড়াঙ্গন, বিশেষ করে অ্যাথলেটিক্স পরিবার।
তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, কর্মকর্তা, কোচ, অ্যাথলেট ও সংশ্লিষ্ট সবাই গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভ্যাটিকা ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে দিনাজপুরে বাবার কবরের পাশেই দাফন করা হবে। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে, বিশেষ করে হাইজাম্পে মিমোর ছিল একচেটিয়া আধিপত্য। স্প্রিন্টেও তার ঝুলিতে রয়েছে একাধিক পদক। সাংগঠনিক দক্ষতায় ট্র্যাকের বাইরেও সমানে দ্যুতি ছড়িয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে শামীমা সাত্তার মিমো ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার খালাতো বোন। তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি কখনোই এই পারিবারিক পরিচয়ের প্রভাব খাটাননি বা কোনো বাড়তি সুবিধাও নেননি। বরং নিজের যোগ্যতা, মেধা ও ক্রীড়ার প্রতি ভালোবাসা দিয়েই তিনি সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
প্যানেল হু








