ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

ডা. শফিকুর রহমান

সংবাদমাধ্যম স্বাধীন থাকলে রাষ্ট্রের বাকি তিন স্তম্ভও ঠিক থাকে

সিনিয়র রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৩১, ১৪ মার্চ ২০২৬

সংবাদমাধ্যম স্বাধীন থাকলে রাষ্ট্রের বাকি তিন স্তম্ভও ঠিক থাকে

রাজধানীর লেডিস ক্লাবে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হলো সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম। এই স্তম্ভ যদি তার নিজস্ব জায়গায় শক্ত ও সোজা থাকে, তবে রাষ্ট্রের বাকি তিনটি স্তম্ভও সঠিকভাবে চলতে বাধ্য হয়। আর গণমাধ্যমের অংশটি ভেঙে পড়লে বা ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রের বাকি অঙ্গগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যর্থ হয়ে যায়। শনিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আপনারা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলবেন। আমরা চাই আপনারা আপনাদের এই কণ্ঠকে সবসময় সোচ্চার রাখবেন। গত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংবাদমাধ্যমে যারা সত্যিকার অর্থে সাদাকে সাদা বলতে চেয়েছিলেন, তাদের কণ্ঠরোধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা এখন সফল হয়েছেন এবং এই সফলতার রেশ যেন বজায় থাকে।

বিগত সরকারের আমলে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের প্রবীণ সম্পাদক আবুল আসাদ আজীবন সত্য ও স্বাধিকারের পক্ষে লড়াই করেছেন। অথচ বয়োবৃদ্ধ অবস্থায় তাকে কীভাবে নির্যাতন করে জেলে নেওয়া হয়েছে, তা আপনারা দেখেছেন। তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার উদ্দেশে আক্রমণ করে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আদালত প্রাঙ্গণে হত্যার উদ্দেশে হামলা করা হয়েছিল। অনেককে গুম ও নির্যাতন করা হয়েছে, যাদের মূল অপরাধ ছিল সত্য কথা বলা।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান পরিষ্কার করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এখন বিরোধী দলে আছি এবং আমরা পাহারাদারের ভূমিকা পালন করব। সরকারি দল বা যারা ক্ষমতায় থাকবেন, তারা যদি জাতীয় স্বার্থে ভালো কাজ করেন, তবে আমরা তাদের সমর্থন দেব, সাধুবাদ জানাব এবং প্রয়োজনে একসঙ্গে লড়াই করব। কিন্তু তারা যদি জনবিচ্ছিন্ন বা পথচ্যুত হয়ে যায়, তবে আমরা তাদের সোজা করে রাস্তায় আনতে বাধ্য করব। ভবিষ্যতের বাংলাদেশের রূপরেখা কেমন হবে, তা নিয়ে জামায়াত আমির দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদের আবির্ভাব ঘটবে না। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যে বাংলাদেশ আর কোনো আধিপত্যবাদীর কাছে মাথা নত করবে না।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে ড. আব্দুল মান্নান ও মুহাম্মদ শামছুর রহমান, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আজম মীর শাহিদুল আহসান, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এম. আব্দুল্লাহ্ ও এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমেদ ও বাকের হোসাইন, বিএফইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, দ্য নিউ নেশন পত্রিকার সম্পাদক মোকাররম হোসেন, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ফাহিমা বাহাউদ্দীনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, কলামিস্ট ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

প্যানেল হু

×