পরিবারের সঙ্গে ঈদ উৎসব পালন করতে ঢাকা ছাড়ছে সাধারণ মানুষ
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে নগরবাসী। ঈদের এখনো ৫-৬ দিন বাকি। আগামী ১৭ মার্চ থেকে ঈদের ছুটি হবে। তাই কিছুটা আগেই পরিবার নিয়ে গ্রামে যেতে দেখা গেছে অনেককেই। শনিবার প্রতিটি বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। রেলপথের ট্রেন যাত্রীদের ঈদযাত্রা কিছুটা স্বস্তি থাকলেও সড়কপথে ২০৭টি স্পটে থেমে থেমে যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ ছাড়া লঞ্চে কেবিন সংকটের কারণে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেন নৌ-পথের যাত্রীরা।
তবে এবারের ঈদযাত্রা অনেকটা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে চাই। যাত্রীরা যাতে নির্দিষ্ট সময়ে বাড়িতে পৌঁছাতে পারেন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে না থাকেন, সে বিষয়ে সরকারের সর্বাত্মক মনোযোগ রয়েছে।’ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
শনিবার রাজধানীর ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি বাস কাউন্টার, গুলিস্তান বাসস্ট্যান্ড ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী বাসে যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং যাত্রাপথে তাদের কোনো ধরনের সমস্যা বা হয়রানির সম্মুখীন হতে হচ্ছে কি না সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নির্দেশনায় সরকার এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, নির্বিঘœ ও স্বস্তিদায়ক করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। মানুষ যেন স্বস্তির সঙ্গে বাড়ি ফিরতে পারে এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস চলাচল করছে এবং নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
যানজটের ঝুঁকিপূর্ণ ২০৭ টি
স্পট চিহ্নিত
এদিকে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে সারাদেশের সড়ক-মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০৭ যানজট ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এসব স্থানে ঈদে আগেই সিটি করপোরেশন, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইটিএ), জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ২০৭টি স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে যানজট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এসব স্থানে যানজট এড়াতে হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ, স্থানীয় পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টাসের পক্ষে পুলিশ সুপার, গাজীপুর রিজিয়ন কর্তৃক এ বিভাগে গত ৩ মার্চ সারাদেশে যানজটের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য চিহ্নিত স্পট ২০৭টি। ঈদের আগে ও পরে এ সব স্পট মনিটরিংয়ের পরামর্শ দেয়া হয়। সড়ক-মহাসড়কে যানজটের ঝুঁকিপূর্ণ ২০৭ টি স্পটের মধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্পট। এগুলো হলো হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড, সাভার বাসস্ট্যান্ড, রেডিও কলোনী, পাকিজা মোড়, নবীনগর মোড়, বাইপাইল মোড়, কালামপুর বাসস্ট্যান্ড, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, ধলেশ্বর ব্রিজ (জাগীর), নয়াডিঙ্গি, বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড, টেপরা বাজার বাসস্ট্যান্ড, উথুলি বাসস্ট্যান্ড এবং উথুলি সংযোগ মোড়।
এভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কের ৫৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্পট: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২১টি যানজট ঝুঁকিপূর্ণ স্পট; ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩ যানজট ঝুঁকিপূর্ণ স্পট; ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৫ যানজট ঝুঁকিপূর্ণ স্পট; ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে ৯ টি যানজট ঝুঁকিপূর্ণ স্পট; ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪ চি যানজট ঝুকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিত; যশোর-খুলনা মহাসড়ক ৬ টি যানজট ঝুঁকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঈদে গণপরিবহনে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল পাবে
ঈদযাত্রায় গণপরিবহনগুলোতে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হয়, তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার রাজধানীর গুলিস্তান বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।
শেখ রবিউল আলম বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে একটি শঙ্কার কথা বলা হচ্ছে। তবে গণপরিবহনে পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা হবে। রবিবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তেলের ঘাটতিকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং বাস ভাড়া বাড়ানো না হয়-এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমি যতটুকু জেনেছি, এই নির্দেশনা কার্যকর আছে এবং থাকবে। ভাড়া বাড়ানো হয়নি এবং বাড়ানোর সুযোগও নেই।
তিনি বলেন, মহাসড়কে যেসব ফিলিং স্টেশন রয়েছে, সেগুলো ঈদের আগে সাতদিন এবং ঈদের পর পাঁচদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। নির্দিষ্ট সময়েই গণপরিবহনগুলো ছেড়ে যাচ্ছে এবং কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ যাত্রীদের ওপর না পড়ে। সড়ক ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে, যাতে যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
রেলপথে স্বস্তির ঈদযাত্রা
প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদ্?যাপন করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। শনিবার ট্রেনে ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক অভিভাবক ছেলেমেয়েদের নিয়ে আগেভাগে বাড়ি ফিরছেন। তবে ঈদযাত্রা হলেও কমলাপুর রেলস্টেশনে তেমন ভিড় দেখা যায়নি।
কমলাপুর থেকে সিলেটগামী জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ছাড়ে যেতে দেখা গেছে। এর ১০ মিনিট পর ছেড়ে গেছে তারাকান্দিগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস। দুটি ট্রেনই সময়মতো ছেড়ে যাওয়ায় স্বস্তির কথা জানান ঘরে ফেরা মানুষেরা।
প্যানেল হু








