ছবি: জনকণ্ঠ
হাওর-বাওর, পাহাড়-সমতল সবি আছে নেত্রকোনায়। এই অঞ্চলে যেমন ধান উৎপাদন হয়। আর এগুলো এলাকার চাহিদা পূরণের পর দেশের খাদ্য ভান্ডারে মজুত রাখার বিশাল ভূমিকা রাখে। তেমনি মিঠা পানিতে উৎপাদিত মাছও রাখে বিশেষ অবদান। পূরণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকার আমিষের চাহিদা। আজ শনিবার রাত পৌনে ১১ টার দিকে এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি।
জেলার প্রায় ১০টি উপজেলায় কম বেশী ঝড়, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে পূর্বধলা, দুর্গাপুর, নেত্রকোনা সদর, বারহাট্রা, কলমাকান্দা ও মোহনগঞ্জে বেশী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, বসন্তের শেষের দিকে ২-৩ দিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার হালকা এবং মাঝারী ধরনের বৃষ্টিপাত হয়েছে। এদিন জেলার খালিয়াজুরিতে এক কৃষক মাঠে গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হয় এবং দুর্গাপুরে এক রাজমিস্ত্রি বাড়ি থেকে কাজে বের হয়ে বজ্রপাতে মারা যান।
শনিবার সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। মাঝেমধ্যে দুই একবার হালকা রোদের দেখা মিলেছে। রাত দশটা থেকে আকাশে বিজলী চমকাচ্ছিল। প্রচুর মেঘ আকাশে জমাট বাধা ছিল। রাত পৌনে ১১টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। পাঁচ মিনিট বৃষ্টির পর শুরু হয় ঝড়। আর কয়েক মিনিট ঝড়ের পর শুরু হয় প্রচণ্ড রকম শিলাবৃষ্টি। শিলাবৃষ্টি প্রায় ৫-৭ মিনিটের মত হয়। সব মিলিয়ে ২০-২২ মিনিটের মতো এর স্থায়িত্ব হয়। কালবৈশাখীর আগেই এরকম ঝড়, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির অভিজ্ঞতা এ এলাকার মানুষের একেবারেই নেই। যে মাত্রার শিলাবৃষ্টি হয়েছে এতে করে মৌসুমী ফল অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ধানের ফসলী জমি।
পূর্বধলা উপজেলার আল মামুন জানায়, বসন্তের শেষের দিকে এরকম ঝড়, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি আগে কখনো দেখিনি। মনে হচ্ছিল ঘরের টিনের ছাল ছিদ্র হয়ে ঘরের ভিতরে শিলাবৃষ্টি পড়ছে। এর ফলে মৌসুমী ফল লিচু কাঁঠাল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাড়ির উঠানে শিলাবৃষ্টি স্তুপ জমা হয়ে গেছে।
সদর উপজেলা পৌর শহরের সাতপাই এলাকার সাইফুল ইসলাম বলেন, ঝড়ের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল। কালবৈশাখেও এরকম ঝড় খুব কম হয়। মনে হচ্ছিল ঝড়ে ঘর উড়িয়ে নিয়ে যাবে। অনেক আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম পরিবারের লোকজন নিয়ে।
দুর্গাপুর উপজেলার একরামুল হক জানান, বছরের শেষের দিকে এরকম ঝড় পরিবারের সবাইকে ভয়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। আজ দেখেছি মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য কত রকম চেষ্টা করে। সবাই দিক বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেছে।
মদন পৌর শহরের ফচিকা গ্রামের সাইকুল ইসলাম জানান, মদনে মাঝারী ধরনের ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে ধানের জমি তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে মৌসুমী ফল লিচু ও কাঁঠাল সহ বেশ কিছু ফল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শহীদ








