ছবি: জনকণ্ঠ
ঈদকে সামনে রেখে নতুন পোশাক আর ভালো খাবারের স্বপ্ন দেখছিল অসহায় একটি পরিবার। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে হঠাৎ করেই। প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে আলমডাঙ্গার এক কিশোরের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম পাখিভ্যান ছিনতাই হয়েছে। এতে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
প্রতারিত কিশোর রাকিব (১৪) আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের পোয়ামারি গ্রামের ক্যানেলপাড়ার বাসিন্দা মো. তারিখ রহমান (৩৫)-এর ছেলে। গত বুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শহরের বাগানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে রাকিবের বাবা পঙ্গুত্বগ্রস্ত হয়েছেন। এরপর থেকে তিনি আর কোনো কাজ করতে পারেননি। সংসারের দায়িত্ব এসে পড়েছে বড় ছেলে রাকিবের কাঁধে। মানুষের কাছ থেকে ঋণ করে একটি পাখিভ্যান কিনে ভ্যান চালিয়ে পরিবারের খরচ চালাত সে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বুধবার দুপুরে তিনজন ব্যক্তি আলমডাঙ্গা থেকে যাত্রী সেজে রাকিবের ভ্যানে ওঠে। তারা তাকে চুয়াডাঙ্গা শহরের বাগানপাড়া এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে সুযোগ বুঝে মুহূর্তের মধ্যেই রাকিবের ভ্যান নিয়ে পালায় প্রতারকরা।
ফলশ্রুতিতে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হারিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবারটি। সামনে ঈদ থাকায় তাদের কষ্ট আরও বেড়েছে।
রাকিবের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সামনে ঈদ। আমার দুই ছেলে বারবার ঈদের কাপড় চায়। কিন্তু আমাদের তো ঠিকমতো খাবারই জোটে না। এখন আবার যে ভ্যান দিয়ে সংসার চলত, সেটাও নেই।”
তিনি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে পাখিভ্যানটি উদ্ধার এবং প্রতারকদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলে প্রতারকদের শনাক্ত করে ভ্যানটি উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের কাছে অসহায় রাকিবের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এলাকাবাসী। তাদের আশা, ঈদের আগে পরিবারটি আবার স্বাভাবিকভাবে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাবে।
শহীদ








