ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই প্রতিদিনই নতুন নতুন রহস্য তৈরি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যুর পর থেকেই পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই এবার নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী **বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু**কে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি এআই-নির্মিত ভিডিও ভাষণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Tasnim News Agency জানিয়েছে, এই বিতর্কের সূত্রপাত করেন ব্রিটিশ রাজনীতিক জর্জ গ্যালোয়ে। গত ১৩ মার্চ নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে তিনি নেতানিয়াহুর একটি ভিডিও ভাষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ভিডিওটিতে বেশ কিছু অস্বাভাবিক বিষয় নজরে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল নেতানিয়াহুর হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যাওয়ার বিষয়টি, যা অনেকের মতে এআই প্রযুক্তির ত্রুটির ইঙ্গিত হতে পারে।
এর পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—নেতানিয়াহু আসলে কোথায়? তিনি কি নিরাপদে আছেন, নাকি তাকে আড়ালে রেখে যুদ্ধ পরিচালনা করা হচ্ছে?
গ্যালোয়ে তার পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, “গত রাতে কেন ইসরাইল একটি এআই ভাষণ প্রকাশ করল, যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে আক্ষরিক অর্থেই ছয় আঙুল নিয়ে দেখা যায়? তিনি এখন কোথায়?”
তার এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।
এছাড়া গ্যালোয়ে শুধু নেতানিয়াহু নয়, ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির–এর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার ভাষায়, “বেন-গভির কোথায় এবং কেন পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম এসব প্রশ্ন তুলছে না?”
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই রহস্য আরও গভীর হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল–এর যৌথ হামলায় ইরান–এর বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর থেকেই প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে তেহরান, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে আঞ্চলিক ঘাঁটি ও ইসরাইলি অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই নেতানিয়াহুর জনসম্মুখে অনুপস্থিতি নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। কেউ বলছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে গোপন স্থানে রাখা হয়েছে। আবার কেউ মনে করছেন, এআই ভাষণের আড়ালে হয়তো লুকিয়ে আছে আরও বড় কোনো সত্য।
তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে প্রশ্নটি এখনো থেকেই গেছে—এটি কি কেবল প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও বড় কোনো রহস্য?
নুসরাত








