ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–এর সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র–এর সংঘাত দুই সপ্তাহ পার হলেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শত্রুপক্ষের যৌথ আগ্রাসনের জবাবে ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হামলা-পাল্টা হামলায় পুরো অঞ্চলই কার্যত এক বড় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের খার্গ দ্বীপ–এ ৯০টিরও বেশি স্থানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত–কে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) জানায়, খার্গ দ্বীপে হামলার পর আমিরাতে অবস্থিত সব গোপন মার্কিন সামরিক আস্তানা এখন তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Guardian।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা Mehr News Agency–এর বরাতে বলা হয়, সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি বিবেচনায় আমিরাতের বাসিন্দাদের বন্দর, ডক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে আইআরজিসি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমিরাতের যেসব স্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। ইরান এটিকে তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষার বৈধ অধিকার বলে দাবি করেছে।
তবে হামলা সত্ত্বেও খার্গ দ্বীপ থেকে তেল রপ্তানির কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত বড় কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপ থেকে পরিচালিত হয়।
এদিকে শনিবার বাগদাদ–এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই হামলার দায় এখনো কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য। একইসঙ্গে নিহত হন ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারও।
এর জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরান। টানা ১৫ দিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই আরও জটিল হয়ে উঠছে।
নুসরাত








