ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

বন্ধু দ.কোরিয়ার হাত ছেড়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র, ১০ মিসাইল ছুড়ল উ.কোরিয়া

প্রকাশিত: ২২:২৮, ১৪ মার্চ ২০২৬

বন্ধু দ.কোরিয়ার হাত ছেড়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র, ১০ মিসাইল ছুড়ল উ.কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–এর সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র–এর সংঘাত দুই সপ্তাহ পেরিয়ে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। শত্রুপক্ষের যৌথ আগ্রাসনের জবাবে ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্য করে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পূর্ব এশিয়ার মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া থেকে নিজেদের Terminal High Altitude Area Defense (THAAD) ব্যবস্থা সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে স্থানান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া একরকম প্রতিরক্ষা ঝুঁকিতে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের খবর প্রকাশের পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব এশিয়ায়। এর মধ্যেই উত্তর কোরিয়া জাপান সাগরের দিকে পরপর ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে রাজধানী পিয়ংইয়ং–এর কাছাকাছি এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে জাপান কোস্টগার্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী।

গত দুই দশক ধরেই জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর ও কোরিয়া প্রণালীতে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে আসছে পিয়ংইয়ং। বেপরোয়া ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে ২০০৬ সালে জাতিসংঘ উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ হয়নি।

উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা থেকে মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়াকে রক্ষায় প্রায় এক দশক আগে দেশটিতে থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটি মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনিক JoongAng Ilbo এক প্রতিবেদনে জানায়, থাড সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিউং।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই জাপান সাগরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের নির্দেশ দেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব এখন পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।

নুসরাত

×