ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

টার্মিনালের বাইরে অনিয়মের দায় নেবে না পরিবহন মালিকরা

ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে সরকার নিরলস কাজ করছে : সড়কমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৪২, ১৪ মার্চ ২০২৬

ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে সরকার নিরলস কাজ করছে : সড়কমন্ত্রী

ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে সরকার নিরলস কাজ করছে

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মানুষের নিরাপদ, নির্বিঘœ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিতে রাজধানীর চার বড় বাস টার্মিনাল গাবতলী, সায়েদবাদ, ফুলবাড়িয়া ও গুলিস্তান পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী  হাবিবুর রশীদ। 
এ সময় তারা সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন আজ রবিবার থেকে বাস মিনিবাসের জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল সুবিধা দেওয়া হবে যাতে আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা যায়। 
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকার এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, নির্বিঘœ ও স্বস্তিদায়ক করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, মানুষ যেন স্বস্তির সঙ্গে বাড়ি ফিরতে পারে এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদ্যাপন করতে পারে সেই লক্ষ্যেই আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি।
এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবহন মালিক নেতারা। তবে ভাড়া নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেটদের অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। পরিবহন নেতারা অভিযোগ করেন, টার্মিনালের ভেতর শৃঙ্খলা থাকলেও সাভার, নবীনগর ও চন্দ্রার মতো পয়েন্টগুলো থেকে যাত্রী তোলার সময় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এসব জায়গায় মফস্বল থেকে আসা বাসগুলো ৫০০ টাকার ভাড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। টার্মিনালের বাইরের নানা অনিয়ম অভিযোগের দায় তো পরিবহন মালিক শ্রমিকরা নিতে পারে না। তাদের ওপর এ দায় চাপানোও ঠিক হবে না।

সত্যিকার অর্থে এই অনিয়ম রুখতে সাংবাদিকদের সঠিক তদন্ত করে রিপোর্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে জনমনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। এদিন রাজধানীর বৃহত্তর বাস টার্মিনাল গাবতলীতে ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘেœ ও চাঁদামুক্ত করার লক্ষ্যে মালিক-শ্রমিক মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এমএ বাতেন ও মহাসচিব সাইফুল আলম ও  বলেন, এই অনিয়ম বন্ধ করতে মন্ত্রণালয় থেকে ম্যাজিস্ট্রেটদের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ার, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল আলম বাতেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব আব্দুর রহিম বক্স দুদু। 
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঈদের সময় টার্মিনালগুলোতে নিয়োগ দেওয়া ভোক্তা অধিকারের অনেক ম্যাজিস্ট্রেটের ভাড়ার চার্ট সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। সারাবছর মালিকরা সরকারি হারের চেয়ে কম বা ডিসকাউন্টে যাত্রী পরিবহন করলেও ঈদের সময় বিআরটিএ নির্ধারিত সঠিক ভাড়া নিতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেটরা সেটিকে ‘অতিরিক্ত ভাড়া’ হিসেবে গণ্য করে মামলা দেয়।
শহর এলাকার ফিটনেসবিহীন সিটি সার্ভিস বাসগুলো ঈদের সময় চুক্তিতে দূরপাল্লার রুটে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এসব গাড়ির চালকদের দীর্ঘ পথ গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নেই, যেখানে ৮-১০ ঘণ্টা চালনার অভিজ্ঞতা দরকার, সেখানে তারা মাত্র ২-৩ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়েই রাস্তায় নামছেন।
উদাহরণ হিসেবে চকরিয়ায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ রুটে চলাচলকারী একটি বাস যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়। সাইফুল আলম বাতেন বলেন, এসব অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধে হাইওয়ে পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের বাইরে স্থানীয় থানাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারদের নির্দেশনা দিয়ে এসব লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি যেন জেলা সীমানা পার হতে না পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান মালিক নেতারা। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সুন্দর ঈদযাত্রার প্রত্যাশা জানিয়ে এই সভা শেষ করা হয়।
অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মো. সারওয়ার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, কোনোভাবেই লক্কড়-ঝক্কড় বাস রাস্তায় নামানো যাবে না। কারণ একটি বাস বিকল হলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বাসের ছাদে যাত্রী নেওয়া, অতিরিক্ত গতি এবং অসুস্থ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য বাস টার্মিনালে হেল্পডেস্ক চালু রাখা হবে এবং সেখানে বাসের ভাড়া তালিকা ও সময়সূচি টানিয়ে রাখতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি বা যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
নিরাপত্তার বিষয়ে ঈদকে কেন্দ্র করে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশন এলাকায় প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে। নিরাপত্তা জোরদারে সাদা পোশাকের পুলিশ, ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, সোয়াত টিম ও ডগ স্কোয়াডও বিভিন্ন টার্মিনালে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে আইন প্রয়োগে ম্যাজিস্ট্রেট টিমও মাঠে থাকবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদযাত্রা সহজ করতে সরকার ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে। এতে যাত্রীদের চাপ এক বা দুই দিনে না পড়ে কয়েক দিনে ভাগ হয়ে যাবে। ফলে ১৬ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারবেন, যা পরিবহন ব্যবস্থাপনার জন্য সুবিধাজনক হবে। ঈদের ছুটিতে এক কোটিরও বেশি মানুষ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাবেন, অন্যদিকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করবেন। 
এই বিপুল যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘœ রাখতে ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল সীমিত রাখা হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাক মহাসড়কে না নামানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্যানেল হু

×