হরমুজ প্রণালীতে অব্যাহত অচলাবস্থা এবং ইরানের অনড় অবস্থানের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে।
ইরানের খার্গ দ্বীপে সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার দাবি তুলে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত তেহরানকে একটি কঠোর সতর্কবার্তা দিতে চেয়েছেন। ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল, এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানকে হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য করবে।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের এই হুমকি আসলে মার্কিন প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কৌশলগত ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ।
মূলত তেলের খনি ও উত্তোলনের জন্য পরিচিত খার্গ দ্বীপে হামলার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি নেটওয়ার্ককে চাপের মুখে রাখার চেষ্টা করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ট্রাম্পের হাতে এখন খুব সীমিত পথ খোলা রয়েছে। তাই সামরিক শক্তির চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবেই জ্বালানি খাতের ওপর হুমকির এই নীতি বেছে নিয়েছে হোয়াইট হাউস। কিন্তু তেহরানের কঠোর অবস্থানের কারণে আমেরিকার এই রণকৌশল খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে না।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, খার্গ দ্বীপের ওপর এই ধরনের হামলার হুমকি ইরানের জন্য নতুন কিছু নয়। ইরান-ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহ দিনগুলোতে বাথ শাসনামলে এই দ্বীপে প্রায় দুই হাজারবার বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। সেই চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও ইরান তাদের তেল রপ্তানি সচল রাখতে সক্ষম হয়েছিল, যা প্রমাণ করে যে কেবলমাত্র অবকাঠামোগত হামলার ভয় দেখিয়ে ইরানকে মাথা নত করানো কঠিন। ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক হুমকি তাই তেহরানের ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না।
অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ইরানের সামরিক কমান্ডাররা বারবার তাদের সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের কোনো জ্বালানি বা সামরিক অবকাঠামো আক্রান্ত হলে তার প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া সাম্প্রতিক বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, মার্কিন বা ইসরায়েলি পক্ষ থেকে কোনো উস্কানি আসলে পারস্য উপসাগরের অপর পাড়ে থাকা তথাকথিত 'জায়নিস্ট অক্ষ' ও তাদের মিত্রদের স্বার্থের ওপর সরাসরি আঘাত হানা হবে।
বাস্তবতা হলো, উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের হাতে বিকল্প নেই বললেই চলে। তেলবাহী জাহাজগুলোকে সামরিক পাহারায় পার করে দেওয়া থেকে শুরু করে সরাসরি হামলার হুমকি; কোনোটিই এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পারেনি। মাঠপর্যায়ের কঠোর বাস্তবতা এবং ইরানের পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা ট্রাম্প প্রশাসনকে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। উদ্ভূত এই সংকটে আমেরিকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সানজানা








