ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

ক্যামেরা বসানো নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, হাসপাতালে ৬

ফিরোজ মাহমুদ, মিরসরাই, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২১:৩৮, ১৪ মার্চ ২০২৬

ক্যামেরা বসানো নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, হাসপাতালে ৬

ছবি: জনকণ্ঠ

মিরসরাইয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোকে কেন্দ্র করে জামায়াত কর্মীর নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বৃদ্ধাসহ ৬ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে মিরসরাই পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড নাজিরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন জামায়াত কর্মী সাইদুল ইসলাম।

আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আহতরা হলেন মো. আলমগীর (৫৫), সুফিয়া খাতুন (৭৫), রোকেয়া আক্তার (৪৪), সেলিনা আক্তার (৫৫), ফারহানা আক্তার সুমি (৩৫) ও মুসলিম উদ্দিন (৩০)।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার নাজিরপাড়া এলাকায় বাড়ির সামনে বেঁধে রাখা মো. আলমগীরের একটি গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল প্রতিবেশী মুসলিম উদ্দিন।

এ সময় দেখে ফেলায় মুসলিম উদ্দিন ও আলমগীরের পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর আলমগীরদের বাড়ি মনিটরিংয়ের জন্য শনিবার বিকেলে ঘরের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছিল।

এ সময় মুসলিম উদ্দিন তার ভাই সাইদুল ইসলাম ও তাদের বাবা আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল এসে এলোপাতাড়ি আলমগীরের মা ও স্ত্রীদের কোপাতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

হামলার শিকার আলমগীরের ভাই মোহাম্মদ হারুন বলেন, আমাদের বাড়িতে একাধিকবার চুরি ও হামলার ঘটনার কারণে শনিবার বিকেলে ঘরের পাশে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর সময় সন্ত্রাসী সাইদুলের নেতৃত্বে, তার ভাই মুসলিম, বাবা আবুল কাশেমসহ আরও ১০-১২ জনের একটি দল এসে আমাদের পুরো বাড়ি ঘেরাও করে ফেলে।

এরপর আমার রোজাদার স্ত্রী, ভাই, মা, ভাবিসহ ঘরের সবাইকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কেউ ভয়ে সাহস পাচ্ছিল না। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে সাইদুল আমাদের ওপর নির্যাতন করে যাচ্ছে। তার কাছে আমরা জিম্মি হয়ে আছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম বলেন, একটি জায়গা নিয়ে আলমগীরদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলে আসছিল। ওই জায়গার বিরোধ নিষ্পত্তি না হলেও আলমগীরেরা আমার চাচার ঘরের পাশে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাচ্ছিল। না লাগানোর জন্য নিষেধ করলে তারা তাদের পরিবারের লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। আমার ভাই মুসলিমকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। তার হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

এদিকে হামলার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে যাওয়া মাত্র সাইদুল সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।

এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মিরসরাই পৌরসভার নাজিরপাড়া এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শহীদ

×