বছরের পর বছর ধরে চলা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আর স্নায়ুযুদ্ধের উত্তাপকে পাশ কাটিয়ে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই বাইডেন-ট্রাম্প প্রশাসনের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হরমুজ প্রণালীর সংকট ও তেলের বাজারে আগুন
সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে তেহরান রণকৌশল হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় মুহূর্তেই দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করে।
ওয়াশিংটনের নীতিগত পিছুটান?
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার তেলের দিকেই ঝুঁকতে হলো ওয়াশিংটনকে। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে:
যেসব জাহাজে আগে থেকেই রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বোঝাই ছিল, সেগুলো বিক্রির অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
১২ মার্চ পর্যন্ত লোড করা জাহাজগুলো আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো বাধা ছাড়াই বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা যাবে।
যদিও প্রশাসন একে 'সাময়িক ছাড়' হিসেবে অভিহিত করছে, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার ওপর আরোপ করা পশ্চিমা অর্থনৈতিক চাপের এক বড় ধরনের পরাজয়।
ভারত ও বাংলাদেশের অবস্থান
এই নতুন বাস্তবতায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ভারতের পর এখন বাংলাদেশও রাশিয়ার তেল আমদানির ক্ষেত্রে একই ধরনের অস্থায়ী ছাড় চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। যেহেতু ভারতকে ইতোমধ্যে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তাই ঢাকাও একই ধরনের সুযোগ প্রত্যাশা করছে।
বিশ্লেষকদের মতামত
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—যে রাশিয়াকে একঘরে করতে যুক্তরাষ্ট্র মরিয়া ছিল, শেষ পর্যন্ত কি সেই রাশিয়ার জ্বালানির ওপরই ভরসা করতে বাধ্য হলো বিশ্ব অর্থনীতি?
রাজু








