সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ কৃষক ও সাধারণ মানুষ শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করে হাওরাঞ্চলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কৃষক, পরিবেশকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্ত রঞ্জন তালুকদার, সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, ইকবাল কাগজী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীর আলম।
বক্তারা অভিযোগ করেন যে গত ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মাঠ প্রশাসন যথাযথ তদারকি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইতোমধ্যে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এবং পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা দেখা দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে কোনো কারণে যদি ফসলডুবি ঘটে তবে এর সম্পূর্ণ দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে মাঠ পর্যায়ের ১১টি চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন সংগঠনের সহ-সভাপতি শাহ কামাল। তিনি জানান যে বাঁধের সার্ভে ও প্রাক্কলন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না এবং গণশুনানি সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রকৃত কৃষকরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে সম্পৃক্ত হতে পারেননি। এ সময় অভিযোগ করা হয় যে অক্ষত বাঁধে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় করা হয়েছে এবং ১১০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এছাড়া বাঁধে বালু ও কাদা মিশ্রিত মাটি ব্যবহার করা এবং সঠিক উপায়ে মাটি সংকুচিত না করায় বৃষ্টির ফলে অনেক স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। এমনকি বাঁধ নির্মাণের নামে হাওরের উর্বর ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে লুট করা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
সমাবেশ থেকে ১০টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ। তার দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিচার বিভাগীয় তদন্ত পরিচালনা এবং তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহার করা। দুর্নীতি রোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া বোরো মৌসুমের কাজ যথাসময়ে শেষ করে স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকে অবহিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো চিহ্নিত করে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে বিল প্রদানের দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ কৃষক নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা স্পষ্ট জানান যে তারা জনগণের জানমাল রক্ষায় সব সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন এবং সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
রাজু








