ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

পেন্টাগনের মাথাব্যথার কারণ ইরানের ‘সস্তা’ শাহেদ ড্রোন: সংকটে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

ওয়াহেদ রাজু

প্রকাশিত: ২৩:৩৫, ১৪ মার্চ ২০২৬; আপডেট: ২৩:৩৬, ১৪ মার্চ ২০২৬

পেন্টাগনের মাথাব্যথার কারণ ইরানের ‘সস্তা’ শাহেদ ড্রোন: সংকটে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এক অসম যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিশ্বের অন্যতম সামরিক শক্তি আমেরিকা। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিলিয়ন ডলারের দামী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অন্যদিকে ইরানের তৈরি সস্তা কিন্তু বিধ্বংসী ‘শাহেদ’ ড্রোন। এই দুইয়ের লড়াইয়ে মার্কিন পকেটে যে বড়সড় টান পড়ছে, তা এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়।

মৌমাছির মতো আক্রমণ ও ডলারের লড়াই
সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ইরান ঝাঁকে ঝাঁকে শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করছে। বিশ্লেষকরা একে বর্ণনা করছেন ‘মৌমাছির মতো’ আক্রমণ হিসেবে। এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে আমেরিকাকে ব্যবহার করতে হচ্ছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর মিসাইল। যেখানে একটি ইরানি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় সামান্য কিছু অর্থ, সেটি আকাশেই ধ্বংস করতে গিয়ে মার্কিন বাহিনীকে খরচ করতে হচ্ছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এই ‘ব্যয়বহুল সুরক্ষা’ এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন লজিস্টিক ও নীতিতে বড় পরিবর্তন
শাহেদ ড্রোনের এই ধ্বংসাত্মক ভূমিকার কারণে মার্কিন সামরিক নীতিনির্ধারকরা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রশ্ন উঠেছে আমেরিকার বর্তমান অস্ত্র মজুদের স্থায়িত্ব নিয়ে। তেহরান বারবার প্রমাণ করেছে যে, বিপুল পরিমাণ সস্তা ড্রোন ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেই অকেজো করে দেওয়া সম্ভব। দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম এই ড্রোনগুলো রুখতে গিয়ে দ্রুত ফুরিয়ে আসছে আমেরিকার উন্নত মিসাইল ভান্ডার।

খরচের ব্যবধান: শাহেদ বনাম মার্কিন ড্রোন
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা যেখানে একটি টমাহক মিসাইল তৈরিতে প্রায় ৮০ কোটি ডলার খরচ করে, সেখানে সেই সমপরিমাণ অর্থে প্রায় ২৩,০০০ লুকাস ড্রোন তৈরি করা সম্ভব। মার্কিন বাহিনীর হাতে ‘সুইচব্লেড ৬০০’ ড্রোন থাকলেও তার খরচ ও সক্ষমতা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

সুইচব্লেড ৬০০: প্রতি ইউনিটের খরচ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার, যার পাল্লা তুলনামূলক কম।

ইরানি শাহেদ: অবিশ্বাস্য কম খরচে তৈরি এই ড্রোন প্রায় ১২৪০ মাইল পর্যন্ত পাড়ি দিতে সক্ষম।

পেন্টাগনের নীতিনির্ধারকরা বুঝতে পারছেন, শুধু দামী অস্ত্র দিয়ে এই ‘ড্রোন যুদ্ধ’ জেতা সম্ভব নয়। সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এখন স্পষ্ট। ইরান যখন সস্তা ও কার্যকর প্রযুক্তিতে বাজার দখল করছে, আমেরিকা তখন বিপুল যুদ্ধব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

রাজু

×