ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

আল আমিন মোল্লা

যে প্রক্রিয়ায় ইরান- ইস্রাইল যুদ্ধের সমাপ্তি হতে পারে

‎ইসমাইল হোসাইন শামীম, উত্তরা, ঢাকা

প্রকাশিত: ২৩:০৬, ১২ মার্চ ২০২৬

যে প্রক্রিয়ায় ইরান- ইস্রাইল যুদ্ধের সমাপ্তি হতে পারে

ছবি: দৈনিক জনকন্ঠ

‎বিশ্বের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা অবসানে দ্রুত যুদ্ধবিরতির বিকল্প নেই  এমন মন্তব্য করেছেন এক্সট্রান্স বাংলাদেশ কোং লিমিটেডের লিগ্যাল এডভাইজার আল আমিন মোল্লা। তিনি মনে করেন, ইরান–ইসরাইল সংঘাতের অবসান ঘটাতে না পারলে তা বড় ধরনের বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা বিশ্বশান্তির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

‎তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ছাড়া বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার আর কোনো কার্যকর পথ খোলা নেই। ইসরাইল হয়তো ধারণা করেছিল, অন্যান্য অনেক দেশের মতো ইরানকেও সহজেই পরাস্ত করা সম্ভব হবে। কিন্তু ইরানের ভেতরে যে শক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে, তা এই সংঘাতকে দীর্ঘায়িত এবং আরও জটিল করে তুলতে পারে।

‎আল আমিন মোল্লা আরও বলেন, যদি এই সংঘাত বর্তমান গতিতে চলতে থাকে, তাহলে তা যে কোনো সময় বৃহত্তর বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তাই বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর উচিত দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া এবং কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতির পথে আনতে কাজ করা। বিশেষ করে ইরানের বক্তব্য ও অবস্থান গুরুত্ব সহকারে শুনে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ বের করা প্রয়োজন।

‎তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের বিধানসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি। কোনো রাষ্ট্রের জন্য এই আইন প্রযোজ্য আর অন্যদের জন্য নয়—এমন ধারণা বিশ্বব্যবস্থাকে আরও অস্থির করে তোলে। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না হলে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর ওপর শক্তিধর রাষ্ট্রের আগ্রাসন অব্যাহত থাকবে।

‎আল আমিন মোল্লা বলেন, আমরা অতীতেও দেখেছি কিছু শক্তিধর রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে এবং নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। এই প্রবণতা থেকে বিশ্বকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে আন্তর্জাতিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং সব রাষ্ট্রকে তা মেনে চলতে বাধ্য করা জরুরি।

‎তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নেয় এবং ন্যায়ভিত্তিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, তাহলে ইরান–ইসরাইল সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা সম্ভব।

এফএ

×