ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২

circluar
circluar
টাঙ্গুয়ার হাওড়ে ঢুকছে পাহাড়ি ঢল

টাঙ্গুয়ার হাওড়ে ঢুকছে পাহাড়ি ঢল

টানা তিন দিনের বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে টাঙ্গুয়ার হাওড়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে অরক্ষিত নজরখালি বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চার ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকাভুক্ত না হওয়ায় প্রতি বছরের মতো এবারও স্বেচ্ছাশ্রম আর নিজেদের চাঁদার টাকায় বাঁধ রক্ষার যুদ্ধে নেমেছেন স্থানীয়রা। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার ৮২টি গ্রামের কৃষকদের প্রায় ২০ হাজার একর বোরো ফসলি জমি এই নজরখালি বাঁধের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী পাউবো এই বাঁধটির দায়িত্ব না নেওয়ায় প্রতি বছরই কৃষকদের ঘর থেকে টাকা তুলে বাঁধ নির্মাণ করতে হয়।  এবারও সোনাডুবি তেকুনিয়া লামারবিলসহ বিভিন্ন উপ-হাওড়ের ফসল রক্ষায় উত্তর ও দক্ষিণ বংশীকু-া এবং শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের কৃষকরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। বিঘা প্রতি নির্দিষ্ট হারে চাঁদা তুলে প্রায় ১০ লাখ টাকা বাজেট করে বাঁশ চাটাই ও বস্তা সংগ্রহের কাজ চলছে। রূপনগর গ্রামের কৃষক আব্দুছ সালাম জানান, টাঙ্গুয়ার হাওড় রামসার সাইট হওয়ার অজুহাতে পাউবো এখানে কাজ করতে চায় না। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে ফসল রক্ষার চেষ্টা চালান। শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী হায়দার জানান প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বাঁধটি সরকারি তালিকার আওতাভুক্ত করা যায়নি। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার পরিষ্কার জানিয়েছেন, নজরখালি বাঁধটি তাদের তালিকায় না থাকায় সেখানে সরকারিভাবে কাজ করার সুযোগ নেই। বর্তমানে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাসহ আশপাশের কৃষকরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। কৃষকদের আশঙ্কা দ্রুত বাঁধটি মজবুত করা না গেলে বছরের একমাত্র সোনালি ফসল পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে।

হতাশ কক্সবাজারের প্রান্তিক লবণ চাষিরা

হতাশ কক্সবাজারের প্রান্তিক লবণ চাষিরা

কক্সবাজারে লবণের ভরা মৌসুমে পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম চললেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক লবণ চাষিরা। এবারে অর্ধলক্ষ লবণ চাষি ঈদ করতে পারছেন না বলে জানা গেছে। গত বছরের তুলনায় লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চরম হতাশা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার লবণ চাষি। উপকূলজুড়ে  দেশের লবণ শিল্পে নিয়োজিত লক্ষাধিক মানুষের ঘামেই পূরণ হচ্ছে দেশের চাহিদা। প্রায় ৪০ হাজার লবণ চাষি ও অর্ধলাখ শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ লবণ উৎপাদন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষিরা পড়ছেন চরম আর্থিক সংকটে। উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তবুও শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এদিকে একদিন পর ঈদুল ফিতর। চারদিকে উৎসবের আমেজ, বাজারে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। কিন্তু ক্ষতির মুখে থাকা লবণ চাষিদের ঘরে নেই সেই আনন্দ। বরং দুশ্চিন্তা আর টানাপোড়েন যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। ঈদে নতুন জামা পরতে কক্সবাজারের বিপণি বিতানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে সব পেশার মানুষ। দুপুর গড়াতেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে, যা গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।  জেলা ও উপজেলা সদরের মার্কেটগুলো সেহেরির সময় পর্যন্ত খোলা থাকছে। তবে এই উৎসবময় পরিবেশেও স্বল্প আয় বা লবণে ক্ষতির মুখে থাকা মানুষের মুখে হতাশা স্পষ্ট। পছন্দের পোশাক দেখলেও দাম বেশি হওয়ায় শেষমেষ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। ঈদগাঁওয়ের গোমাতলীর লবণ চাষি রিদুয়ানুল হক বলেন, গত মৌসুমে ৪০ হেক্টর জমিতে লবণ চাষ করেছিলাম। উৎপাদন খরচ ও বিক্রিতে সামঞ্জস্য না থাকায় মৌসুম শেষে ৩৩ লাখ টাকার মতো লস ছিল।

ঈদ আয়োজনে সরব টিভি চ্যানেল

ঈদ আয়োজনে সরব টিভি চ্যানেল

নাচ-গানে বিটিভির আনন্দমেলা ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান আনন্দমেলা এবারও নির্মিত হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনে। অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে ঈদের দিন রাত ১০টায় বিটিভির পর্দায়। এবারের আনন্দমেলা উপস্থাপনা করবেন জনপ্রিয় দুই তারকা মাসুমা রহমান নাবিলা ও ইরফান সাজ্জাদ। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ থাকছে তারকাদের নৃত্য পরিবেশনা। এখানে নাচবেন পূজা চেরি, মেহজাবীন চৌধুরী, রিচি সোলায়মান, চাঁদনী এবং আনিকা কবির শখ। আশির দশক থেকে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সিনেমার গান ও ফোক গানে তাদের পরিবেশনা সাজানো হয়েছে বিশেষ কোরিওগ্রাফিতে। সংগীত পরিবেশনায় থাকছেন জনপ্রিয় শিল্পী কনকচাঁপা, মনির খান, রবি চৌধুরী, ন্যান্সি, নাসির ও চিরকুট ব্যান্ড। এছাড়া অনুষ্ঠানে থাকবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় আকর্ষণীয় অ্যাক্রোবেটিক শো। দর্শকদের হাসাতে থাকবেন কৌতুকশিল্পী আবু হেনা রনি। পাশাপাশি থাকবে যন্ত্রসংগীতে ‘রমজানের ঐ রোজার শেষে’, বিশেষ জিঙ্গেল এবং নাটিকা।  অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন আফরোজা সুলতানা, হাসান রিয়াদ ও ইয়াসমিন আক্তার। ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে নাচ, গান, কমেডি ও নানা আয়োজনে সাজানো এই বিশেষ ‘আনন্দমেলা’ দর্শকদের জন্য হয়ে উঠবে বাড়তি বিনোদনের উৎসÑ এমনটাই আশা আয়োজকদের।

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না ফ্রান্স

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না ফ্রান্স

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান নিয়ে আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, তার দেশ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে সাহায্য করতে প্রস্তুত ফ্রান্স-তবে সেটা চলমান ইরান যুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি মিশনের অংশ হিসেবে হতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোকে পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানানোর প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা এই সংঘাতে জড়িত নই। তাই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সামরিক অভিযানে ফ্রান্স অংশ নেবে না।’ প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে এক নিরাপত্তা বৈঠকের আগে ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, কোনো উদ্যোগ নিলে তা অবশ্যই ইরানের সঙ্গে আলোচনা ও উত্তেজনা কমানোর মাধ্যমে করতে হবে এবং সেটি চলমান বোমা হামলা বা সামরিক অভিযানের বাইরে আলাদা রাখতে হবে। গত দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করার পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। চলতি সপ্তাহে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর সময় থেকে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি।

ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি ট্রাম্পের, পেছাল চীন সফর

ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি ট্রাম্পের, পেছাল চীন সফর

ইরান যুদ্ধের সমর্থনে পাশে না দাঁড়ানোয় পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিত্রদের ওপর অসন্তুষ্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। এমনকি এ সিদ্ধান্তের জন্য তার কংগ্রেসের কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার ওভাল অফিসে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ন্যাটোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার এই প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন। খবর আলজাজিরা অনলাইনের।  ন্যাটো মূলত একটি রক্ষণাত্মক বা আত্মরক্ষামূলক সামরিক জোট। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা। কিন্তু ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোকে সমর্থন দিয়ে আসছে, তাই এখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ন্যাটোর উচিত ছিল সেই ঋণের প্রতিদান দেওয়া। ট্রাম্প বলেন, ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবশ্যই আমাদের ভাবা উচিত। এই সিদ্ধান্তের জন্য আমার কংগ্রেসের প্রয়োজন নেই। তিনি ন্যাটোর প্রত্যাখ্যানকে ‘হতাশাজনক’ এবং ‘অংশীদারিত্বের জন্য ক্ষতিকর’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মাথায় সুনির্দিষ্ট কিছু নেই, তবে ন্যাটোর ভূমিকায় আমি মোটেও রোমাঞ্চিত নই।’ তিনি আরও বলেন, এটি ন্যাটোর জন্য একটি বড় পরীক্ষা ছিল। আমাদের তাদের প্রয়োজন নেই, কিন্তু তাদের এখানে (ইরান যুদ্ধে) থাকা উচিত ছিল। ন্যাটো একটি অত্যন্ত বোকামিপূর্ণ ভুল করছে। সদ্য পদত্যাগ করা শীর্ষ সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্টের কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। কেন্ট দাবি করেছিলেন যে যুদ্ধের আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, কেন্ট ব্যক্তিগতভাবে ‘ভালো মানুষ’ হলেও ‘নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত দুর্বল’। ট্রাম্পের মতে, কেন্টের পদত্যাগ একটি ‘ভালো দিক’। তিনি বলেন, যারা মনে করে ইরানের ওপর হামলা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, আমাদের প্রশাসনে তেমন লোক দরকার নেই। হোয়াইট হাউসে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের দুজন শীর্ষস্থানীয় নেতা মার্কিন হামলায় নিহত হয়েছেন। নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন ইরানের ‘আসল শীর্ষ নেতা’ এবং অন্যজন সাম্প্রতিক সপ্তাহে ৩২ হাজার ইরানি বিক্ষোভকারীকে হত্যার জন্য দায়ী। ট্রাম্প বলেন, তাদের নেতারা শেষ। এটি একটি অশুভ গোষ্ঠী। এর আগে ইসরাইল দাবি করেছিল যে, তাদের সোমবার রাতভর হামলায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের বাসিজ বাহিনীর প্রধান জেনারেল গোলাম রেজা সোলাইমানি নিহত হয়েছেন। তবে ইরান এখনও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। ইরান যুদ্ধের জেরে ট্রাম্পের বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফরও পিছিয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেইজিং ও অন্যান্য বিশ্বশক্তিকে সামরিক শক্তি ব্যবহারের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় সফরটি এই মাসের শেষে হওয়ার বদলে আগামী পাঁচ বা ছয় সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হবে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এই সাক্ষাৎকে দুই পরাশক্তির মধ্যে ভঙ্গুর বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিলো। কিন্তু ইরান যুদ্ধের শেষ পরিণতি খুঁজতে গিয়ে এটি এখন জটিল রূপ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য চীনসহ অন্য দেশগুলোকে চাপ দিলেও পরে ট্রাম্প কিছুটা সুর পাল্টে বলেন, মিত্ররা মুখ ফিরিয়ে নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের আসলে ‘কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই’।

বিশ্বের মুসলমানদের যে সকর্ত বার্তা দিয়ে গেছেন লারিজানি

বিশ্বের মুসলমানদের যে সকর্ত বার্তা দিয়ে গেছেন লারিজানি

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরান পিছু হটবে না। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর সিএনএন অনলাইনের।  সাম্প্রতিক এক বার্তায় লারিজানি বলেন, ‘কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ মুসলিম দেশ আমাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশ্বাসঘাতক আগ্রাসনের সময় ইরানকে সমর্থন দেয়নি।’  তিনি মুসলিমদের ধর্মীয় দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, ‘কেউ যদি ‘হে মুসলিমরা’ বলে আহ্বান জানায় আর কেউ সাড়া না দেয়, তবে সে কি মুসলিম?’ তিনি আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশে ইরানের হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, চলমান সংঘাতে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, ‘আপনারা কোন পক্ষের?’ তবে লারিজানি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায় না। তিনি বলেন, ‘মুসলিম বিশ্বের ঐক্য যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা সব রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সক্ষম।’ এর আগে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি দখলদার ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরান।  বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান এবং ইসলামি বিপ্লবের আদর্শকে সমুন্নত রাখার আমৃত্যু সংগ্রাম শেষে, অবশেষে আলি লারিজানি তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করলেন। সত্যের ডাকে সাড়া দিয়ে, দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে তিনি লাভ করলেন শাহাদাতের পরম গৌরব।

কাবুলে পাকিস্তানের হামলার পর সংযম প্রদর্শনের আহ্বান চীনের

কাবুলে পাকিস্তানের হামলার পর সংযম প্রদর্শনের আহ্বান চীনের

কাবুলে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হওয়ার পর মঙ্গলবার পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে ‘শান্ত ও সংযম’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে চীন। খবর বিবিসি অনলাইনের।  আফগানিস্তান অভিযোগ করে বলেছে, তাদের রাজধানী কাবুলের একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ। আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং ২ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তানি সেনারা বেশ কয়েকবার কাবুলে হামলা চালিয়েছে। তালেবান সরকার সীমান্তপাড়ের হামলাকারী জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে- পাকিস্তানের এমন দাবির প্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে এই সংঘাত শুরু হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার দুই দেশকে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে এবং আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটাতে আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তান এ অঞ্চলে চীনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী। অন্যদিকে, বেজিং নিজেকে আফগানিস্তানেরও এক ‘বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী’ হিসেবে দাবি করে। বেজিং জানিয়েছে, চীনের এক বিশেষ দূত দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে এক সপ্তাহ সময় ব্যয় করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘চীন উত্তেজনা কমাতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে নিজস্ব চ্যানেলগুলো ব্যবহার অব্যাহত রাখবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংলাপ ও আলোচনাই দুই দেশের মধ্যে সমস্যার সমাধানের একমাত্র কার্যকর উপায়।

অগ্রাধিকার পাচ্ছে দেশের প্রথম ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’

অগ্রাধিকার পাচ্ছে দেশের প্রথম ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’

দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে সরকারের প্রধান বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলো যৌথভাবে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এ পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দেশের প্রথম ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ প্রতিষ্ঠা। জানা যায়, গত রবিবার চারটি প্রধান বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট সংস্থা- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ এই রোডম্যাপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করে। পরিকল্পনাটিতে মোট ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে, যা তিনটি স্তম্ভের আওতায় সাজানো মজবুত অবকাঠামো, বিনিয়োগ সহায়তা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন। এর লক্ষ্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য মৌলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। অবকাঠামো খাতে অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে বন্দর আধুনিকীকরণ, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন, প্রস্তুত-ব্যবহারযোগ্য শিল্পপার্ক প্লট সম্প্রসারণ, ফ্রি ট্রেড জোন এবং প্রস্তাবিত ডিফেন্স ইকোনমিক জোনে অগ্রগতি, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ও বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের পুনরুজ্জীবন এবং বিকল্প জ্বালানির সম্ভাবনা অনুসন্ধানসহ জ্বালানি খাতের উদ্যোগ। বিনিয়োগ সহায়তা স্তম্ভের আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীদের সেবা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরিকল্পিত উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষকে একীভূত করা; আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার করা; প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বেসরকারি খাতের একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন এবং সিঙ্গেল-উইন্ডো ভিত্তিক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাবিজ’ চালু করা। এছাড়া রোডম্যাপে বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি এবং চীনে বিডার প্রথম বিদেশি কার্যালয় স্থাপনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তৃতীয় স্তম্ভ ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন’-এর লক্ষ্য নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ চিহ্নিত করা এবং তা আকর্ষণ করা। পরিকল্পিত উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে দেশব্যাপী শিল্প মানচিত্র প্রণয়ন, কৃষি-ব্যবসা, ফার্মাসিউটিক্যালস, চামড়া, বস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক দেশগুলো থেকে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) পাইপলাইন গড়ে তোলা। পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, সামুদ্রিক চাষ (মেরিকালচার) এবং রপ্তানিমুখী চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো ব্লু ইকোনমি উদ্যোগও জোরদার করা হবে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, এই কৌশলের লক্ষ্য বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ত্বরান্বিত করা। তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান দ্রুত বাড়ানো এবং বাস্তবায়নভিত্তিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে সরকার দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ সহজতর করতেও কাজ করছে। এদিকে দেশের প্রথম ডিফেন্স ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিডার কর্মকর্তারা। বিডার নির্বাহী সদস্য ও ব্যবসা উন্নয়ন প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি জানান, ডিফেন্স ইকোনমিক জোন বাস্তবায়নের কাজ তিন ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে নীতিগত অনুমোদন নেওয়া হয়েছে, যা বিডার সর্বশেষ গভর্নিং বোর্ড সভায় পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় ধাপে বিনিয়োগ ও রপ্তানি কার্যক্রম সক্ষম করতে প্রয়োজনীয় আইন, নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর যে পরিবর্তন প্রয়োজন তা চূড়ান্ত করা হবে। এসব কাজ আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করা গেলে তৃতীয় ধাপে ডিফেন্স ইকোনমিক জোনে শিল্প স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করা যাবে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সংক্রান্ত সংস্থাগুলোর গভর্নিং বোর্ড সভায় দেশে প্রথমবারের মতো ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে এই পার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য প্রায় ৮৫০ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা শিল্পে চাহিদা বাড়ছে এবং সরবরাহ সংকটের সময় নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় ডিফেন্স ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য ডিজিটাল সিস্টেম চালু করল এনবিআর

আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য ডিজিটাল সিস্টেম চালু করল এনবিআর

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি অনলাইন সিস্টেম চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি বছর ব্যক্তিগত করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে যেসব করদাতা ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন না, তারা অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করতে পারবেন। করদাতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার রিটার্ন দাখিলের সময় সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারেন বলে এনবিআর সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন এবং অতিরিক্ত সময়ের অনুমোদনের কাজটি সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ এবং স্বস্তিদায়ক করার লক্ষ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য অনলাইন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, করদাতাগণ এখন সহজেই ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে ‘টাইম এক্সটেনশন’ মেন্যু ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন।

উৎসবের জুতা

উৎসবের জুতা

ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন সাজ আর আনন্দের দিন। নতুন পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতা না হলে পুরো সাজটাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই ঈদের কেনাকাটার তালিকায় পোশাকের পাশাপাশি জুতাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে থাকে। তবে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই চলবে না-ঈদের জুতা হতে হবে আরামদায়ক, টেকসই এবং পোশাকের সঙ্গে মানানসই। আরামই হোক প্রথম শর্ত ঈদের দিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা, আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়ানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা-সব মিলিয়ে অনেক সময় জুতা পায়ে থাকে। তাই ঈদের জুতা কেনার সময় আরামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নরম সোল, হালকা ওজন এবং ভালো ফিটিংয়ের জুতা হলে দীর্ঘ সময় পরেও পায়ে অস্বস্তি হবে না। পোশাকের সঙ্গে মিল ঈদের পোশাকের রং ও ডিজাইনের সঙ্গে জুতার মিল থাকা জরুরি। ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামার সঙ্গে লোফার, নাগরা বা স্যান্ডেল ভালো মানায়। অন্যদিকে মেয়েদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা ফিউশন পোশাকের সঙ্গে হিল, কিটেন হিল বা স্টাইলিশ স্যান্ডেল বেশ মানানসই। বর্তমানে মিনিমাল ডিজাইনের জুতা বেশ জনপ্রিয়, যা প্রায় সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। আবহাওয়ার কথাও ভাবুন ঈদ অনেক সময় গরমের সময় পড়ে। তাই এমন জুতা নির্বাচন করা ভালো যাতে পা ঘেমে না যায়। খোলা ডিজাইনের স্যান্ডেল বা বাতাস চলাচল করতে পারে এমন উপকরণের জুতা হলে আরাম বেশি পাওয়া যায়। মানসম্মত উপকরণ জুতা কেনার সময় শুধু ডিজাইন নয়, উপকরণের দিকেও নজর দিতে হবে। ভালো মানের চামড়া বা টেকসই কৃত্রিম উপকরণের জুতা হলে তা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। সোল শক্ত হলেও যেন খুব শক্ত না হয়, আবার খুব নরমও না হয়-এমন ভারসাম্যপূর্ণ জুতা বেছে নেওয়াই ভালো। ট্রেন্ডি জুতা এখনকার ফ্যাশনে অতিরিক্ত ভারী বা জটিল ডিজাইনের জুতার চেয়ে হালকা, পরিষ্কার ডিজাইনের জুতা বেশি জনপ্রিয়। নিউট্রাল রং যেমন-কালো, বাদামি, বেইজ বা সোনালি-সহজেই বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। তাই অনেকেই এখন এমন জুতা বেছে নিচ্ছেন যা ঈদের পরেও নিয়মিত ব্যবহার করা যায়। সঠিক সাইজ নিশ্চিত করুন অনেকে তাড়াহুড়ো করে জুতা কিনে পরে বুঝতে পারেন সাইজ ঠিক হয়নি। তাই কেনার সময় অবশ্যই জুতা পায়ে পরে দেখে নেওয়া উচিত। খুব টাইট বা খুব ঢিলা জুতা দুইটাই সমস্যার কারণ হতে পারে। সব মিলিয়ে ঈদের জুতা হওয়া উচিত স্টাইলিশ, আরামদায়ক ও ব্যবহার উপযোগী। কারণ ঈদের আনন্দ যেন অস্বস্তিকর জুতার কারণে ম্লান না হয়ে যায়। সঠিক জুতা বেছে নিতে পারলে ঈদের সাজও হবে পরিপূর্ণ, আর দিনটাও কাটবে স্বাচ্ছন্দ্যে ও আনন্দে। ফ্যাশন প্রতিবেদক

শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য

শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য

ঈদের উৎসব প্রতিটি শিশুর কাছে অনেক রঙিন। রোজার শুরু থেকেই তাদের ঈদ নিয়ে থাকে নানা জল্পনা-কল্পনা। বন্ধুদের মধ্যে হয় উৎসবমুখর কথোপকথন। কে কয়টা ড্রেস কিনল, কীভাবে সাজবে এমন অনেক কিছু। সকাল, দুপুর ও রাতের পোশাকের সঙ্গে সাজ ও গহনা এক্সেসরিজের বিষয়ে বর্তমানে বড়দের থেকে ছোটরা  বেশি স্মার্ট ও সচেতন। আর তাদের বায়না পূরণ করতে বাবা-মায়েরা ছুটছে বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে। প্রকৃতির বদলের খেলায় বাড়ছে তাপদাহ। তাই পরিবর্তন আসেেছ পোশাকেও। বিশেষ করে এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয় বাড়ির শিশুদের নিয়ে। কেননা গরমে শিশুর পোশাক কেমন হবে, কী ধরনের পোশাক শিশুদের জন্য আরামদায়ক হবে। এসব ভাবনা চলে আসে প্রকৃতির রূপ বদলের সঙ্গে সঙ্গে। এ কারণে আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোও এ সময়ে শিশুদের জন্য তৈরি করে ফ্যাশনেবল সব আরামদায়ক পোশাক। বাজার ঘুরে দেখা গেল, বিভিন্ন রং ও নকশায় অলঙ্কৃত করা হয়েছে শিশুদের পোশাক। প্রায় সব মার্কেট আর ফ্যাশন হাউসে এখন মিলবে শিশুদের জন্য সুতির পোশাক। ভয়েল, সুইস ভয়েল, আদ্দি, ভিসকস, মিক্সড ভয়েল, বেক্সি ভয়েলসহ নানারকম সুতি কাপড়ে তৈরি হচ্ছে কোমলমতিদের পোশাক। এ ছাড়া কটনের সঙ্গে ফেব্রিক দিয়েও তৈরি হচ্ছে পোশাক। বাজারে আছে সুতি, লিনেন ও গেঞ্জি কাপড়ের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। আরামদায়ক উপকরণ হিসেবে ডিজাইনাররা বেছে নিয়েছেন সুতি, গ্যাবার্ডিন, লিনেন ও নরম জিন্স এর মতো নরম কাপড়। শিশুরা যেহেতু বেশি ছোটাছুটি করে তাই ঘাম হয় বেশি। এ কারণে গরমকালে শিশুদের পোশাক নির্বাচনে সুতির কাপড় বেছে নিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ভয়েল, পাতলা তাঁত কাপড়ও আরামদায়ক। গরমে যেসব কাপড় তাপ শোষণ করে কম এমন হালকা রঙের পোশাক যেমন আকাশি, হালকা সবুজ, গোলাপি, সাদা, ধূসর, বাদামি ইত্যাদির ওপর রঙিন ছাপা বা প্রিন্টের পোশাক বেছে নিতে পারেন। এতে শিশুদের দেখতে বেশ ভালো লাগে। তবে তারা যেহেতু খেলাধুলা বা ছোটাছুটি করে বেশি, তাই রঙিন পোশাক পরাতে চাইলে ব্লক বা বাটিকের পাতলা সুতি পোশাক বেছে নিতে পারেন। এছাড়াও শিশুদের জন্য ছোট বা মাঝারি প্রিন্টের পোশাক বেশি মানানসই। ফুল, পাতা, পাখি, জ্যামিতিক নকশা বা বল প্রিন্টের পোশাকও পরাতে পারেন। এতে শিশুদের প্রাণবন্ত ও উচ্ছল লাগে। তবে শিশুদের জন্য যে ধরনের পোশাকই নির্বাচন করা হোক না কেন, তা যেন খুব বেশি আটসাঁট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাতাস চলাচল করতে পারে এমন ঢিলেঢালা পোশাক শিশুদের জন্য বেশি উপযোগী। ছেলে ও মেয়ে শিশুদের পোশাকে খুব একটা পার্থক্য দেখা যায় না বললেই চলে। ছেলেদের জন্য আছে ঢিলেঢালা গেঞ্জি, টি-শার্ট, ফতুয়া, নিমা, হাফ-প্যান্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, ট্রাউজার, ফুল-প্যান্ট। মেয়েদের জন্য এসব ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে নানারকম ডিজাইনের ফ্রক, লেহেঙ্গা, সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট, টপস, প্লাজো, শার্ট, টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট ইত্যাদি। এক ডিজাইনার বলেছেন, ‘আমরা সবসময়ই বাংলাদেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে কাপড় বেছে নেই। গরমে শিশুদের পোশাকটা যেন স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়। সোনামণিদের পোশাকে প্যার্টানের দিক থেকে রয়েছে লিল্যাকজিন সিস্টেম যেমন প্রয়োজনে পোশাকটি ছোট-বড় করা যাবে এবং ঢিলেঢালা হলে টাইট করে নিতে পারবেন।’ কোথায় পাবেন লা রিভ, টুয়েলভ, আড়ং, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, কে ক্র্যাফট, অঞ্জন’স, মেনজ ক্লাব, সীমান্ত স্কয়ার, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে পাবেন শিশুর আরামদায়ক পোশাক। দাম পড়বে ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। একটু কম দামের জন্য বেছে নিতে পারেন রাজধানীর নিউমার্কেট, নুরজাহান মার্কেট, বঙ্গবাজার, মৌচাক মার্কেট, তালতলা মার্কেট। গ্যাবার্ডিন ও জিনসের প্যান্টগুলোর দাম পড়বে ৩০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে।

বেচা- কেনা জমজমাট হলেও বাড়তি দামে নাখুশ  ক্রেতারা

বেচা- কেনা জমজমাট হলেও বাড়তি দামে নাখুশ ক্রেতারা

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শেষ সময়ে পুরোপুরি জমে উঠেছে ময়মনসিংহের ঈদ বাজার। সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে ময়মনসিংহের বিপনি-বিতানগুলোতে। এবারের ঈদে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানী পোশাকের চাহিদা তুঙ্গে। দাম নিয়ে ক্রেতা- বিক্রাতাদের দর কষাকষি চললেও ক্রেতারা কিনে নিচ্ছেন পছন্দের পোশাক। তবে শাড়ীর বাজার মন্দা থাকায় কিছুটা অখুশি ব্যবসায়ীরা। এদিকে শপিংমল ও বিপনি-বিতানসহ বিভিন্ন পয়েন্ট চিহৃিত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন ফুটপাত, মার্কেট শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীর তাজমহল, স্টেশন রোড, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, চরপাড়াসহ বিভিন্ন শপিংমল ও বিপনি-বিতানগুলো সেজেছে নতুন সাজে। বাহারি নামে ও ডিজাইনে শাড়ী, থ্রি-পিছ, টপস, শার্ট, প্যান্ট, টিশার্ট শোভা পাচ্ছে শোরুমগুলোতে। গাঙ্গিনারপাড় এলাকার ফুটপাতেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। দাম কষাকষি করে পছন্দের পোষাক কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর পোষাকের দাম বেশি বলে অভিযোগ তাদের। ক্রেতারা জানান, প্রত্যেকটি শপিংমল, বিপনি-বিতানসহ ফুটপাতে পছন্দের পোশাক কিনছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে গত বছরের তুলনায় এবার দাম বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা। তারা কিছুটা কম দামে কিন্তে এক শোরুম থেকে আরেক শোরুমে ছুটে যাচ্ছেন । অনেকে কম দামে পছন্দের পোশাক পেতে ফুটপাতকে বেছে নিচ্ছেন। শহরের বাড়িপ্লাজা শপিংমল থেকে পরিবারের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছিলেন আবু বকর । কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, যেসব থ্রী পিছ গত বছর দাম চেয়েছিল ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা । সেই থ্রী পিছ এখন ১৫শ টাকায় কিনতে হচ্ছে। মেয়ের জন্য এক থ্রী পিছ কিনেছি। এখন পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যাচ্ছি। তবে বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রি করায় পকেটে টাকার হিসেবে মেলাতে হিমসিম খাচ্ছি। গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় ফুটপাত থেকে বাচ্চার টিশার্ট ও প্যান্ট কিনছিলেন সানিয়া আক্তার । তিনি বলেন, এক দরের শোরুমগুলোতে দাম লিখে রাখা হয়েছে। অন্য শোরুমেও দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। এঅবস্থায় নিজের বাজেটের মধ্যে পোশাক কিনতে ফুটপাতে এসেছি। বিক্রেতারা জানান, ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। তবে মানুষের হাতে টাকা না থাকায়, দামি কাপড় কিনতে সাহস পাচ্ছেন না। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে বেশি বিক্রি হচ্ছে সারারা, গারারা, সিল্ক, শিফন, সুতির সালোয়ার-কামিজ, কুর্তিসহ বাহারি ডিজাইনের কাপড়। শিশুদের পোশাক, নারীদের শাড়ি, লেহেঙ্গার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ঈদের কেনাকাটা। দাম একটু বেশি থাকলেও ভালো বিক্রি হওয়ায় খুশি দোকানীরা। আজাদ শপিংমলের ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে বেচাকেনা জমজমাট হয়ে উঠেছে। গতবছরের চেয়ে এবার পোশাকের পাইকারি দাম একটু বেশি। তাই ক্রেতাদের কাছে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বিক্রি কমছে না। শেষ সময়ে বেচাকেনা আরও জমজমাট হবে বলে প্রত্যাশা করছি। ফুটপাতের ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল জনকন্ঠকে বলেন, শপিংমল ও বিপনি-বিতানগুলোতে দাম বেশি থাকার কারনে অনেকেই কিনাকাটা করতে পারছেন না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা ফুটপাতে ভিড় করছেন। তারা কম দামে পছন্দের পোশাক কিনতে পারছেন। এতে আমাদেরও ব্যবসাও ভালোই হচ্ছে । জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে কোনোকিছু বিক্রি করা যাবে না। দেশে তৈরি পোশাক ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি বা অন্য কোনো দেশের বলেও বিক্রি করা যাবে না। ক্রেতা ঠকিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা পকেট ভারি করতে চেষ্টা করলে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ-আল্-মামুন বলেন, বিভিন্ন শপিংমলের সামনে পোশাক ও সাদা পোশাকে পুলিশের টহল রয়েছে। চুরি- ছিনতাই রোদে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ঈদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।