ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

শাবাশ বাংলাদেশ

-

প্রকাশিত: ২১:৩৪, ১৬ মার্চ ২০২৬

শাবাশ বাংলাদেশ

সম্পাদকীয়

ঢাকায় পাকিস্তান দলকে হারানো এটাই প্রথম নয়। বরং এখন যেন টাইগারদের অভ্যাসই হয়ে গেছে। গত বছরও ঢাকায় এই শক্তিশালী দলটি সিরিজ হেরেছিল। গত রবিবার মিরপুরে ওয়ান ডে ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে টাইগাররা। শাবাশ বাংলাদেশ। ঢাকার মাটিতে শক্তিশালী দল পাকিস্তানকে সিরিজ পরাজয়ের লজ্জা দেওয়া। দারুণ ফর্মে আছে বাংলাদেশ দল। আমাদের স্মরণে আছে গত বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ হাতছাড়া করে সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনার মুখে পড়েছিল পাকিস্তান দল।

রমিজ রাজা বলেছিলেন, পাকিস্তানকে ব্যাটিং-বোলিং করা শিখিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পাকিস্তানকে শিক্ষা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ম্যাচ ও সিরিজÑ দুটিই পাকিস্তানের হাত থেকে ফসকে গেছে। বাংলাদেশকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। তারা আবারও পাকিস্তানকে একটা শিক্ষা দিল। কীভাবে কঠিন উইকেটে আপনার ব্যাটিং-বোলিং করা উচিত (সেটা শিখিয়েছে)।’ জানি না এবার প্রথম ম্যাচে শোচনীয় পরাজয় এবং শেষ ম্যাচে জিততে জিততে হেরে যাওয়া পাকিস্তান দল নিয়ে তাদের সতীর্থরা কী বলবেন?

বিশেষ করে তানজিদের সেঞ্চুরি এবং মোস্তাফিজ-তাসকিনের যুগল বিধ্বংসী আক্রমণে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নাজেহাল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে। পাকিস্তানের অলআউট হওয়ার ষিয়টিও টাইগারদের জন্য আত্মশ্লাঘার। স্বাধীনতার মাসে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানের লড়াকু ক্রিকেট দলকে স্বাধীনতা দিবস ও ঈদের আগে হারানো নাগরিকদের জন্য এক পরম আনন্দই বটে।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা। তৃতীয় ম্যাচটার গায়ে ‘ফাইনাল’ তকমা লাগতেই পারে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এমন ‘ফাইনাল’ কম খেলেনি। রবিবারের বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের এমন ১৮তম ‘ফাইনাল’। প্রথম ১৭ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল আটটি ম্যাচে, হেরেছিল নয়টিতে। গতকালের জয়ে সমতা এলো হার-জিতে। বাংলাদেশের ইনিংস গড়ে উঠেছে তানজিদ হাসানকে কেন্দ্র করে। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান উদ্বোধনী জুটিতে সাইফ হাসানকে নিয়ে গড়েন ১০৫ রানের জুটি, এরপর দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুলের সঙ্গে গড়েন ৫৩ রানের জুটি।
বাইরের দুনিয়া বাংলাদেশকে যে কয়টি ইতিবাচক অর্জনের জন্য চিনছে তার ভেতর প্রথম সারিতে রয়েছে ক্রিকেট। মেধা ও প্রতিভা যদি ঈশ্বর প্রদত্ত বলে মেনেও নিই, তার পরও থাকে তার চর্চা, অনুশীলন ও সাধনার বিষয়টি। আমরা আগেও বলেছি বাঙালির ক্রিকেটমেধা চাপা পড়ে ছিল পাকিস্তান নামক অভব্য, বাঙালিবিদ্বেষী রাষ্ট্রের কাছে। স্বাধীনতার সুন্দরতম ফসলের একটি আমাদের ক্রিকেট। আমাদের ছেলেরা বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের জাদু দেখানোর সুযোগ পেয়েছে। সীমিত ওভারের ম্যাচে এই উপমহাদেশ, তথা গোটা ক্রিকেট বিশ্বেরই অন্যতম সুপার পাওয়ার পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে দুনিয়াকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বর্তমানে ক্রিকেটে নতুন পরাশক্তির নাম বাংলাদেশ। 
আমরা বারবার বলে আসছি, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সামনের দিকে যেতে হলে সবকিছুর আগে খেলোয়াড়দের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। ‘আমরা পারি, আমরা জিতব’- এই লড়াকু মনোভাবের অধিকারী হতে হবে তাদের। ইতিবাচক লড়াকু মনোভাব নিয়ে খেললে যে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলা যায়, তারই স্বাক্ষর রেখেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্রিকটে দলকে অভিনন্দন। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, আগামীতেও যেন এমন সম্মিলিত পারফর্ম্যান্সের দৃষ্টান্ত রেখে জয়বাদী ক্রিকেট তারা উপহার দেয়।

প্যানেল হু

×