হাঁটু ব্যথা
পবিত্র রমজান মাসসহ তারাবী নামাজ আদায় করা বা সকল নামাজ আদায় করা মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে যারা দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু ব্যথা, বিশেষ করে Osteoarthritis বা Rheumatoid arthritis–এ ভুগছেন, তাদের জন্য দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, রুকু-সিজদা করা বা বারবার উঠা-বসা করা কষ্টকর হয়ে ওঠে। সঠিক পরামর্শ মেনে চললে হাঁটু ব্যথা থাকা সত্ত্বেও নিরাপদে তারাবী নামাজ আদায় করা সম্ভব। এ ছাড়াও দিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেও কিছু নিয়ম নীতি পালন করতে হয়।
হাঁটু ব্যথা কেন বাড়ে?
নামাজে সাধারণত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা এবং একাধিক রাকাতে বারবার রুকু ও সিজদা করতে হয়। এতে হাঁটুর জয়েন্টে চাপ বৃদ্ধি পায়। যাদের কার্টিলেজ ক্ষয়, লিগামেন্ট দুর্বলতা বা পেশির ভারসাম্যহীনতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যথা ও ফোলা বাড়তে পারে। রমজানে পানিশূন্যতা ও ক্লান্তিও পেশি ও জয়েন্টের শক্তভাব বাড়ায়।
করণীয় নির্দেশনা
১. নামাজের আগে হালকা ওয়ার্ম-আপ:
মসজিদে যাওয়ার আগে ৫-১০ মিনিট হালকা স্ট্রেচিং ও হাঁটু ভাঁজ-সোজা করার ব্যায়াম করুন। উরুর সামনের (কোয়াড্রিসেপস) ও পেছনের (হ্যামস্ট্রিং) পেশি সক্রিয় করলে হাঁটুর ওপর চাপ কমে।
২. সাপোর্ট ব্যবহার :
প্রয়োজনে হাঁটু ব্রেস বা ইলাস্টিক সাপোর্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে জয়েন্ট স্থিতিশীল থাকে এবং ব্যথা কম অনুভূত হয়।
৩. চেয়ারে নামাজ আদায়:
যদি মাটিতে বসা বা সিজদা করা কষ্টকর হয়, তাহলে চেয়ারে বসে নামাজ পড়া সম্পূর্ণ বৈধ। দাঁড়াতে অসুবিধা হলে বসে কিরাত শুনে ইশারায় রুকু-সিজদা করা যায়। ইসলাম শরীয়তে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সহজতার সুযোগ রয়েছে।
৪. দীর্ঘ সময় একটানা দাঁড়িয়ে না থাকা:
সম্ভব হলে মাঝে বিরতি নিন। ৮ রাকাত পড়ে বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী রাকাত আদায় করতে পারেন।
৫. সঠিক জায়নামাজ ও স্থান নির্বাচন :
নরম বা পুরু জায়নামাজ ব্যবহার করলে হাঁটুতে কম চাপ পড়ে। শক্ত মেঝেতে সরাসরি সিজদা করা এড়িয়ে চলা ভালো।
৬. তারাবীর পর যতœ :
নামাজ শেষে ১০-১৫ মিনিট বরফ সেক দিলে প্রদাহ কমে। হালকা ম্যাসাজ ও পা উঁচু করে বিশ্রাম নিলে আরাম পাওয়া যায়।
৭. পানি ও পুষ্টি :
ইফতার ও সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ জয়েন্টের স্বাস্থ্যে সহায়ক।
৮. নিয়মিত ফিজিওথেরাপি:
হাঁটু ব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ব্যায়াম ও থেরাপি গ্রহণ করা জরুরি। সঠিক ব্যায়াম হাঁটুর শক্তি ও নমনীয়তা বাড়ায়, ফলে নামাজে অস্বস্তি কম হয়।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
যদি হাঁটু ফুলে যায়, লালচে হয়ে যায়, হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয় বা হাঁটতে কষ্ট হয়, তাহলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শেষ কথা
তারাবী নামাজ আত্মিক প্রশান্তি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি অনন্য সুযোগ। হাঁটু ব্যথা থাকলেও সঠিক প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও চিকিৎসা পরামর্শ মেনে চললে নিরাপদে ইবাদত আদায় করা সম্ভব। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে সম্মান করে সুস্থভাবে ইবাদত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
লেখক: চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালটেন্ট,
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, (দ্বিতীয় তলা), বাড়ি-১২/এ, রোড, ৪/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা। হটলাইন: ০১৭১৭-০৮-৪২-০২
Email :[email protected]
প্যানেল হু








