ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১

স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য বিভাগের সব খবর

মাথাব্যথা ঝিনঝিন

মাথাব্যথা ঝিনঝিন

[‘মাথা ব্যথা ঝিনঝিন, সঙ্গে জ্বালাপোড়া হাত পায়ে অবশ, জ্বালা সারাবেলা। নাম তাঁর ‘কিয়ারী’, নেই কোনো ভয় প্রয়োজনে সার্জারি, রোগী ভালো হয়!’] সুদূর রংপুর থেকে এসেছিলেন এই ভদ্রমহিলা, ঘাড় ব্যথা হাতে জ্বালাপোড়া অবশ হয়ে যাওয়া নিয়ে। দিন দিন হাতের শক্তি কমে যাচ্ছিল ওনার। এমআরআই করে কিয়ারী ম্যালফর্মেশন (ঈযরধৎর ঞুঢ়ব১) রোগ নির্ণয় হয়। অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপিক সার্জারি করে দিলাম। পরবর্তীতে রোগী সুস্থতা লাভ করেন। আলহামদুলিল্লাহ। এমনই অসংখ্য রোগী প্রতিনিয়ত সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ নিয়ে ভালো থাকতে পারেন। ঞধশব যড়সব সবংংধমব - ১) কিয়ারী ম্যালফর্মেশন, মাথার পিছনে ঘাড়ের অংশে সংযোগস্থলে গঠনগত ত্রুটির একটি রোগ। যেখানে মাথার পিছনের মস্তিষ্কের টনসিল নামক অংশ স্নায়ুরজ্জুর নালী দিয়ে নিচে নেমে আসে, এতে মস্তিষ্কের সঙ্গে স্নায়ুরজ্জুর পানি চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। ২) এই রোগ সাধারণত মধ্য বয়সে বা তরুণ বয়সে হতে পারে, মূলত হাত-পায়ে তাপমাত্রা ও সাধারণ অনুভূতির তারতম্য দেখা দেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় ব্যথা, ব্যালেন্স সমস্যা, হাত পায়ের দুর্বলতা শক্তি কমে আসা, এই উপসর্গগুলো নিয়েও রোগীরা আসতে পারে ৩) বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওষুধ, ব্যায়াম ও উপদেশ মেনে চললে রোগটি সহনীয় পর্যায়ে থাকে। ৪) হাত-পায়ের শক্তি কমে যাওয়া, বারংবার ওষুধ খেয়েও মাথাব্যথা ঘাড় ব্যথা ভালো না হওয়া—- এই সব বিশেষ ক্ষেত্রে সার্জারির প্রয়োজন হয়, যেসব সার্জারি বাংলাদেশে করা হয় প্রতিনিয়ত। ৫) অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপিক সার্জারি করালে রোগী নিরাপদ থাকেন, সার্জারির ফলাফলও ভালো হয়।  লেখক : ব্রেইন, স্পাইন ও স্ট্রোক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন্সেস হাসপাতাল। চেম্বার : আলোক হাসপাতাল লি. মিরপুর ১০, ঢাকা। হটলাইন – ১০৬৭২

উচ্চ রক্তচাপে ব্যায়াম

উচ্চ রক্তচাপে ব্যায়াম

উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের ব্যায়ামের ধরন : বর্তমান সময়ে হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বহু মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।  কি ধরনের ব্যায়াম করবেন? : ১. হাঁটাহাঁটি  বা দৌড়ানো ২. সাইকেল চালানো ৩. সাঁতার  কাটা ৪. খেলাধুলা করা ৫. বাগানে কাজ করা ৬. সিঁড়ি দিয়ে ওঠা / হাইকিং ৭. নাচ কতক্ষণ ব্যায়াম করবেন? : সপ্তাহে প্রতিদিন অথবা ন্যূনতম ৫ দিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। একটানা ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা সম্ভব না হলে ১০ মিনিট করে দিনে ৩ বার ব্যায়াম করেও সমান সুফল পাওয়া যাবে। ব্যায়ামের সুফল কি? : আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি অনুযায়ী মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ মি. মি. পারদ। নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে সিস্টোলিক রক্তচাপ ৩ থেকে ৬ ইউনিট এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৪ থেকে ১২ ইউনিট পর্যন্ত হয়ে থাকে। ১ থেকে ৩ মাস নিয়মিত ব্যায়াম করার পরে এই সুফল লক্ষ্য করা যায় এবং যতদিন ব্যায়াম করা যায় ততদিন এই সুফল বজায় থাকে। ব্যায়াম শুরু করার পূর্বে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন? ১. হার্টের  কোনো রোগ জানা থাকলে যেমন হার্ট অ্যাটাক  ২. যদি ফুসফুসে কোন রোগ থাকে  ৩. যদি পরিবারের পুরুষ সদস্যের ৫৫ বছর বা মহিলা সদস্যের ৬৫ বছর বয়সের পূর্বে হার্টের রোগ বা হঠাৎ মৃত্যুর ইতিহাস থাকে। ৪. নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস না থাকলে ৫. শারীরিক সুস্থতা সম্পর্কে আপনি যদি নিশ্চিত না থাকেন। কি লক্ষণ দেখা দিলে ব্যায়াম বন্ধ করবেন?: ১. বুকে, গলায়, চোয়ালে বা বাহুতে ব্যথা/ চাপ অনুভব করলে। ২. অতিরিক্ত / অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হলে ৩. মাথা ঘোরালে ৪. হৃৎস্পন্দন / হার্টবিট অনিয়মিত হলে ব্যায়ামের অভ্যাস ধরে রাখার উপায় : আমরা অনেকেই ব্যায়াম শুরু করি কিন্তু নানা কারণে ব্যায়ামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারি না। এক্ষেত্রে নিচের উপায়গুলো আপনাকে সাহায্য করতে পারে। ১. ব্যায়ামকে মজার করে তুলুন ২. দৈনন্দিন কাজের রুটিনের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যায়ামের জন্য সময় নির্বাচন করুন ৩. ব্যায়ামে কাউকে সঙ্গে নিন  উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যায়াম করার জন্য জিম এ ভর্তি হওয়া বা দামি যন্ত্রপাতি কেনার প্রয়োজন নেই, উপরের যে কোন এক বা একাধিক ব্যায়াম নিয়মিত করবেন। ব্যায়াম খাদ্য-ভ্যাসের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রাখা উচিত। 

চোখের পলক শনাক্ত করবে সেন্সর!

চোখের পলক শনাক্ত করবে সেন্সর!

চোখের পলক শনাক্ত করা যায় এমন এক সেন্সর প্রযুক্তির স্মার্ট চশমা বানানোর দাবি করেছেন গবেষকরা। আর একে স্মার্ট চশমার জগতে যুগান্তকারী উদ্ভাবন হিসেবে দেখছেন তারা। এ নতুন প্রযুক্তিটি অনেকটা এমন যে, চশমাটি আপনার ত্বককে স্পর্শ না করেও কখন আপনি চোখের পলক ফেলতে পারেন তা বুঝতে পারে। গবেষকরা বলছেন, তাদের বানানো কোমল ও নমনীয় পর্দা বা ফিল্ম ঠিক এভাবেই কাজটি করতে পারে। খুব কাছাকাছি কোনো বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করার জন্য ডিজাইন করা এই নতুন প্রযুক্তিটি বিভিন্ন স্মার্ট ডিভাইসে কীভাবে কাজ করে সে বিষয়ে বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে নোরিজ। প্রচলিতভাবে নন-কন্টাক্ট বিভিন্ন সেন্সর কোনো বস্তুকে স্পর্শ না করেই তা পরিমাপ বা শনাক্ত করতে পারে। যেমনÑ ইনফ্রারেড থার্মোমিটার ও গাড়ির সেন্সর, যা গাড়ির কাছাকাছি থাকা বিভিন্ন বাধার বিষয়ে চালকদের সতর্ক করে। গবেষকদের বানানো এ সেন্সরটি তিনটি স্তর দিয়ে তৈরি। উপরের স্তরটি ফ্লোরিনেটেড ইথিলিন প্রোপিলিন (এফইপি)। এটি এক ধরনের প্লাস্টিক, যা বৈদ্যুতিক চার্জ ধারণ করে, মাঝের স্তরটি একটি বৈদ্যুতিক পরিবাহী ফিল্ম এবং নিচের স্তরটি একটি নমনীয় প্লাস্টিকের বেইস। এফইপি মূলত একটি ‘ইলেকট্রেট’ হিসেবে পরিচিত। এটি এমন একটি উপাদান, যা একটি ‘ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক’ ক্ষেত্র তৈরি করে, যেমন চুম্বক দিয়ে একটি চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে থাকে। গবেষকরা এফইপিভিত্তিক সেন্সর চার্জ করে এটি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করেন। কোনো বস্তু সেন্সরের কাছাকাছি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এদের মধ্যে থাকা স্থির চার্জ বৈদ্যুতিক প্রবাহকে প্রভাবিত করে, এর ফলে কোনো বস্তুর সংস্পর্শে না এসেই সেন্সরটি বস্তুকে শনাক্ত করতে পারে। এই স্বচ্ছ নমনীয় সেন্সরটি দুই থেকে ২০ মিলিমিটার বা এক ইঞ্চির সামান্য কম দূরত্ব থেকে বিভিন্ন উপকরণ যেমন কাঁচ, রাবার, অ্যালুমিনিয়াম ও কাগজ দিয়ে তৈরি বস্তু শনাক্ত করতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে নোরিজ। চমকপ্রদভাবে, এক চার্জে তিন হাজার বারের মতো কোনো বস্তুর কাছাকাছি আসা-যাওয়া শনাক্ত করা পর্যন্ত নিজের চার্জ বজায় রাখতে পেরেছে সেন্সরটি। এটি প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছে। এ নতুন ফিল্ম প্রদর্শনের জন্য গবেষকরা এটিকে একটি চশমার লেন্সের ভেতরে জুড়ে দিয়েছেন। যখন কেউ এই চশমা পরেন তখন সেন্সর তাদের চোখের পাপড়ির নড়াচড়া শনাক্ত করার মাধ্যমে চোখের পলক ফেলার বিষয়টি শনাক্ত করতে পারে। যারা কথা বলতে বা ইশারা ভাষা ব্যবহার করতে পারেন না এমন বিভিন্ন নন-কন্টাক্ট সেন্সর ব্যবহার করা লোকেদের সাহায্য করতে ভবিষ্যতে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তিটি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। যুগান্তকারী সেন্সর প্রযুক্তির আমরা বুঝতে পারি কীভাবে পদার্থ বিজ্ঞানের অগ্রগতি আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে উন্নত করে এমন ব্যবহারিক প্রয়োগের দিকে নিয়ে যেতে পারে।