ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে কয়েক দেশের ‘না’

ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৩৩, ১৬ মার্চ ২০২৬

ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে কয়েক দেশের ‘না’

ইরানের অব্যাহত হামলার মুখে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না অস্ট্রেলিয়া ও জাপানসহ কয়েক দেশ। সোমবার অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা প্রথমে জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র জাপানও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে তিনি প্রায় সাতটি দেশের কাছে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে এই আহ্বান জানান তিনি। খবর আলজাজিরা ও জাপান টাইমস অনলাইনের। 
সোমবার অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে (এবিসি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পরিবহনমন্ত্রী ক্যাথরিন কিং বলেন, এ ধরনের কোনো অনুরোধের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ পাঠাচ্ছি না। আমরা জানি এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এ ধরনের কোনো অনুরোধ আমাদের কাছে আসেনি এবং আমরা এতে অংশ নিচ্ছি না।
অস্ট্রেলিয়া গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানি হামলা থেকে রক্ষায় একটি বিমান বাহিনীর নজরদারি উড়োজাহাজ এবং আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার কথা জানিয়েছিল। তবে সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ‘আক্রমণাত্মক পদক্ষেপে’ অংশ নিচ্ছে না।
এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে সোমবার জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে সেখানে নিজেদের নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা টোকিওর নেই।
১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী শীঘ্রই হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে পাহারা দেওয়া শুরু করবে। তবে গতকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প এই কাজে জাপানসহ মিত্র ৬ দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বাকি দেশগুলো হলো চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেন। ট্রুথ সোশ্যালে এই বার্তা পোস্ট করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি চাই এই দেশগুলো এগিয়ে আসুক এবং নিজেদের এলাকা রক্ষা করুক; কারণ এটা (হরমুজ প্রণালি) তাদের এলাকা, এই এলাকা থেকেই তারা তাদের জ্বালানির সরবরাহ পায়।’
ট্রাম্পের এই আহ্বানের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ইস্যুতে বিবৃতি আসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দপ্তর থেকে। সেই বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, আমরা এখনও (হরমুজ প্রণালীতে) নিরাপত্তা জাহাজ পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আইনি ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে জাপান স্বাধীনভাবে কী কী করতে পারে, সে সম্পর্কে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। 
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমিও একই বক্তব্য জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন,  আমরা কী করতে পারি এবং বর্তমান পরিস্থিতি আমদের তা করা উচিত কিনা— সেটি অবশ্যই আলাদা বিষয়। ট্রাম্পের আহ্বানের পর প্রথম দেশ হিসেবে তা প্রত্যাখ্যান করল জাপান।

প্যানেল হু

×