মার্কিন অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যের মূলে কুঠারাঘাত করতে এবার নতুন রণকৌশল হাতে নিয়েছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের বিনিময়ে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’ ব্যবহারের শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান। বেইজিংয়ের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে নেওয়া এই পদক্ষেপকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
মূল ঘটনাক্রম ও নতুন শর্ত
সংঘাতের শুরু থেকেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন:
প্রণালী দিয়ে সীমিত আকারে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
শর্ত হিসেবে পণ্য পরিবহন ও তেল ক্রয়ের লেনদেন করতে হবে কেবল চীনা ইউয়ানে।
ইতিমধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চীনে পাঠানো তেলের দাম ইউয়ানে পরিশোধ করা শুরু হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব: দুই ধারার তেল বাজার
ইরানের এই কৌশলে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে দুটি সমান্তরাল ধারা তৈরি হতে পারে:
ইউয়ান জোন: হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে কম খরচে এবং ইউয়ানে কেনা তেল।
ডলার জোন: বিকল্প পথে চড়া পরিবহন খরচ ও ডলারে কেনা তেল।
মার্কিন সাম্রাজ্যের ওপর আঘাত
গত ৫২ বছর ধরে টিকে থাকা পেট্রোডলার ব্যবস্থার ওপর এটিই সবচেয়ে বড় আঘাত হতে পারে। এর ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় স্থায়ীভাবে বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক রিজার্ভে ইউয়ানের গুরুত্ব বৃদ্ধিতে চীন যেমন লাভবান হবে, তেমনি ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ মুক্ত হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি।
রাজু








