মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি সংঘাতে জয়ী হতে না পেরে এখন ‘ছলচাতুরির’ আশ্রয় নিয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করতে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে একের পর এক ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন (নিজেদের ওপর বা মিত্রদের ওপর সাজানো হামলা) চালাচ্ছে পশ্চিমারা।
মূল অভিযোগ: ‘লুকাস’ ড্রোন ও নকল হামলা
ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের আদলে তৈরি ‘লুকাস’ নামক একটি নকল ড্রোন ব্যবহার করছে। এই ড্রোনের মাধ্যমে তুরস্ক, কুয়েত এবং ইরাকের বেসামরিক স্থাপনায় অতর্কিত হামলা চালানো হচ্ছে, যার দায় চাপানো হচ্ছে ইরানের ওপর।
সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্যবস্তু:
আজারবাইজান ও ইরাক: আজারবাইজানে রহস্যময় ড্রোন হামলা এবং ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশের লানাস রিফাইনারিতে আক্রমণ।
সাইপ্রাস: সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর (RAF) আক্রোতিরি ঘাঁটিতে হামলা।
কূটনৈতিক মিশন: রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা, যেখানে ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্রদূত আলী রেজা এনায়েতি।
"ইরান সবসময় ঘোষণা দিয়ে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। বেসামরিক স্থাপনা আমাদের লক্ষ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে চাইছে।" — আব্বাস আরাকচি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে কোণঠাসা হয়ে পড়া আমেরিকা ইরানবিরোধী আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করতে চাইছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ইরানের দূরত্ব বাড়িয়ে তেহরানকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ‘একলা চলো’ নীতিতে বাধ্য করাই এই কৌশলের মূল লক্ষ্য।
মজার বিষয় হলো, ইরানের অভিযোগের পালে হাওয়া দিয়েছে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাইপ্রাসের ব্রিটিশ ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় ইরানের সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর একটি বড় অংশ এই অস্থিতিশীলতার জন্য ইরানকেই দায়ী করে চলেছে।
রাজু








