ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

রিকশাচালককে মারধরের অভিযোগ

উত্তরায় শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুর লুটপাটে পুলিশের মামলা আসামি ৭০০

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:২৮, ১৭ মার্চ ২০২৬

উত্তরায় শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুর লুটপাটে পুলিশের মামলা আসামি ৭০০

‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিং কমপ্লেক্সে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

রাজধানীর উত্তরায় রিকশাচালককে মারধরের অভিযোগে ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিং কমপ্লেক্সে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশ মামলা করেছে। এতে আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় ৭০০ জনকে। 
সোমবার উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ বলেন, উত্তরায় শপিং কমপ্লেক্স ঘেরাও করে ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এতে অজ্ঞাত পরিচয় ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, এদিন সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এন এস নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, রিকশাচালককে মারধর করে শপিংমলের  ভেতরে বেঁধে রাখার খবরটি সম্পূর্ণ গুজব। ঘটনাটি তদন্ত করে  দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। সংঘর্ষের সময় বিক্ষুব্ধদের হামলায় পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন।
এর আগে রবিবার রাতে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় এক রিকশা চালককে পিটিয়ে হত্যা ও গুম করার অভিযোগ তুলে উত্তরা স্কয়ার বাণিজ্যিক ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় রিকশা চালকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রবিবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত উত্তরায় স্কয়ার গ্রুপের একটি বাণিজ্যিক ভবনের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, রাতে ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে মার্কেটের সামনে রিকশা পার্কিং নিয়ে এক রিকশা চালকের বাগ্ণ্ডা হয় পরে সেটি মারামারিতে রূপ  নেয়। মারমারিতে ওই রিকশাচালক মারা গেছেন ও নিহত রিকশা চালককে ভবনের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে গুজব ছড়ায়। 
বিষয়টি দ্রুত অন্যান্য রিকশাচালকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত তারা সডক অবরোধের পাশাপাশি ভবনে ভাঙচুর চালায়। পরে ওই মার্কেটের সামনে পুলিশ ও সেনাবাহিনী  মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষুব্ধদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর বিক্ষুব্ধরা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, একজন নিখোঁজ থাকার কথা বলা হলেও এখনো তার নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। কেউ নিহত হয়েছেন কি না  সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ভবনের ভেতরে তল্লাাশি চালালেও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য  মোতায়েন করা হয়।

প্যানেল হু

×