ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন

বাকেরগঞ্জে নদীগর্ভে বিলীন বসতবাড়ি ও ফসলি জমি

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল

প্রকাশিত: ২৩:৫৭, ১৬ মার্চ ২০২৬

বাকেরগঞ্জে নদীগর্ভে বিলীন বসতবাড়ি ও ফসলি জমি

নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পারিবারিক কবরস্থান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ সাদিস, আমতলী, আমিনবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পান্ডব নদীর অব্যাহত ভাঙনে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পারিবারিক কবরস্থান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে করে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ চরম আতঙ্ক ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুকনা মৌসুমে পানি কমে যাওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পান্ডব নদীর তীব্র ¯্রােত ও ভাঙনের কারণে কলসকাঠী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নদী তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি, দক্ষিণ সাদিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পারিবারিক কবরস্থান এবং শত শত একর আবাদি জমি। ভাঙনের ফলে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ কেউ ভাঙনের আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই পান্ডব নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কিন্তু স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন নদীর তীরবর্তী জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এলাকার ভুক্তভোগীরা দ্রুত নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
দক্ষিণ সাদিস গ্রামের বাসিন্দা আবু সালে জানান, যুগের পর যুগ ধরে পান্ডব নদীর ভাঙনে আমিনপুর গ্রাম কলসকাঠীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। শত শত মানুষ হারিয়েছেন তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই। একটি গ্রাম নদীতে হারিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নদী ভাঙন রোধে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এভাবে ভাঙতে থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে দক্ষিণ সাদিস গ্রাম পান্ডব নদীতে হারিয়ে যাবে। 
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, নদী ভাঙনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পান্ডব নদীর অব্যাহত ভাঙনে এলাকার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বহু ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, পান্ডব নদীর ভাঙন স্থান পরিদর্শন করে কি পরিমাণ বরাদ্দ দরকার সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্যানেল হু

×