ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

কিউইদের অপেক্ষায় প্রাণবন্ত টাইগাররা

শাকিল আহমেদ মিরাজ

প্রকাশিত: ০০:০৯, ১৭ মার্চ ২০২৬

কিউইদের অপেক্ষায় প্রাণবন্ত টাইগাররা

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ট্রফি নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাস

পাহাড়সম চাপ নিয়ে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্মরণীয় একটি সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ। হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে শ্বাসরুদ্ধকর শেষ ওয়ানডেতে ১১ রানের নাটকীয় জয়ে ২-১এ সিরিজ পকেটে পুড়ল মেহেদি হাসান মিরাজের দল। টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত টাইগাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরল তিন মাস পর। পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে ব্যবধান পাঁচ মাসের। সমীকরণটাও ভীষণ চ্যালেঞ্জং। যার যাত্রাটা শুরু হলো এই সিরিজ দিয়ে। আর দারুণ জয়ে ওয়েস্টইন্ডিজকে দশে নামিয়ে দিয়ে নবম স্থানে উঠে এলো বাংলাদেশ।

সরাসরি ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলতে হলে আগামী বছর মার্চের মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ের অন্তত নয়ে থাকতেই হবে। কারণ পয়েন্টের ব্যবধান যৎসামান্য। আসন্ন প্রতিটি সিরিজ, প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের মাঝেও অধিনায়ক মিরাজ সেটি মনে করিয়ে দিয়েছেন। তিন সপ্তাহের সফরে আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে আসবে নিউজিল্যান্ড। ঢাকায় প্রথম দুই ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ১৭ ও ২০ তারিখ। ২৩ এপ্রিল সিরিজের শেষ ওয়ানডে চট্টগ্রামে। এরপর ২৭ ও ২৯ তারিখ সেখানেই হবে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটি টি২০। ঢাকায়  শেষ টি২০ ম্যাচ ২ মে।
‘আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, পয়েন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি পয়েন্ট আমাদের জন্য অনেক, অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, ২০২৭ বিশ্বকাপে আমাদের কোয়ালিফাই করতে হবে। এজন্য প্রত্যেকটা সিরিজ, প্রত্যেকটা ম্যাচ আমাদের জন্য অনেক জরুরি। আমরা ওভাবেই চিন্তা করব যে, কীভাবে আমরা সিরিজ জিততে পারি, ম্যাচ জিততে পারি।’ বলছিলেন মিরাজ। মিরপুরে ৮ উইকেটের দাপুটে জয়ে শুরুর পর দ্বিতীয় ম্যাচে ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। একতরফা দুটি ম্যাচের পর সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি রূপ নেয় অঘোষিত ফাইনালে। লড়াইটাও হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি।

শেষদিকে যখন পেন্ডুলামের মতো দুলছিল ম্যাচের ভাগ্য, উত্তাপ তখন অনুভব করছিলেন, তবে তাতে ভড়কে যাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক, তার হৃদয়ে গেঁথে ছিল জয়ের প্রত্যয়। ২৯০ রানের পুঁজি গড়ার পর বল হাতেও শুরুটা দুর্দান্ত ছিল বাংলাদেশের। ৮২ রানে ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার পর মনে হচ্ছিল, আরেকটি বড় জয় দিয়েই ধরা দেবে সিরিজ জয়। কিন্তু সালমান আলি আগার সেঞ্চুরি ও লোয়ার-মিডল অর্ডারে দারুণ প্রতিরোধে জমে ওঠে ম্যাচ। শেষদিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাত বদল হয়েছে বেশ ক’বার। সালমানকে বিদায় করার পরও স্বস্তিতে ছিল না বাংলাদেশ। শেষ ওভারের পঞ্চম বলটির আগ পর্যন্ত ম্যাচে সম্ভব ছিল সবকটি ফলই।

শেষ পর্যন্ত শেষের চাপকে জয় করে ১১ রানে জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেন মিরাজরা,‘চাপ তো অবশ্যই ছিল, তবে আমার বিশ্বাস ছিল যে, ম্যাচটা জিতব। খুব ক্লোজ হয়ে গিয়েছিল খেলাটা, আমরা মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট বের করতে পারিনি। আমরা যদিও ওখানে আরও কিছু উইকেট বের করতে পারতাম, তাহলে ভালো হতো।’ বলছিলেন অধিনায়ক। বোলিং নিয়ে তৃপ্তির পাশাপাশিই ফুটে উঠেছে ব্যাটিং নিয়ে অস্বস্তি। তবে এই সিরিজের মতো উইকেটে খেলা হলে এই ঘাটতিও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করেন মিরাজ,‘হ্যাঁ, কিছু জায়গায় আমাদের ঘাটতি আছে। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিতে হবে।’
মিরাজ বলছেন,‘আমার কাছে মনে হয় যে, আমরা যদি ‘ট্রু’ উইকেটে ভালো উইকেটে খেলি, ব্যাটসম্যানরা অনেক আত্মবিশ্বাস পাবে। এই সিরিজে আমরা ট্রু উইকেটে খেলেছি এবং ব্যাটসম্যানরা এখানে রান পেয়েছে। এভাবেই আমরা পরিকল্পনা করছি।’ ছক্কা মেরে সেঞ্চুরিতে পা রাখা ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৩১তম ওয়ানডেতে এসে পেয়েছেন প্রথম আন্তর্জতিক সেঞ্চুরি। ১০০ স্ট্রাইক রেটে ১০৭ বলে উপহার দিলেন ১০৭ রানের নান্দনিক এক ইনিংস খেলে হয়েছেন ম্যাচসেরা। বয়সভিত্তিক দল থেকেই বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক ও দেশের এই সময়ের আলোচিত কোচ হান্নান সরকার বলেছেন,আশা করি, ওয়ানডেতে তামিমের নামের পাশে অন্তত ২০টা সেঞ্চুরি দেখব।

এ প্রসঙ্গে তানজিদ বলেছেন,‘ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করব। হয়ত এর থেকেও বেশি হতে পারে! স্বপ্ন দেখতে তো কোনো সমস্যা নাই। অবশ্যই চেষ্টা করব।’ আড়াই বছরের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলে এর আগে ৭৬ ম্যাচে ১৬ বার পঞ্চাশের সীমানা ছুঁয়েছেন তিনি। কিন্তু শতরানের ঠিকানা পর্যন্ত যেতে পারেননি একবারও। নিজের ভেতরও সেজন্য আক্ষেপ ছিল, আরও ছিল তাড়না। শেষ পর্যন্ত অধরাকে ধরে ফেলার পর এটিকেই এখন নিয়মিত ব্যাপারে রূপ দিতে চান ২৫ বছর বয়সী ওপেনার,‘সবসময় চেষ্টা করি দলের জন্য ভালো কিছু অবদান রাখার। আগের ওয়ানডেগুলোর অনেকগুলোতে ভালোভাবে সেট হয়ে আউট হয়ে গেছি। আজকে চেষ্টা করেছি, যেটা ভালো শুরু পেয়েছি, এটা কীভাবে আরেকটু বড় করা যায়।’ এত ম্যাচ খেলার পর এলো সেঞ্চুরি।
তানজিদের স্বীকারোক্তি,’আরও আগে হয়ত হওয়া উচিত ছিল এটা। করতে পারিনি, অনেক ভালো ইনিংস ছিল, সেগুলোকে টেনে নিতে পারিনি। যেটা অতীত হয়ে গেছে, ওদিকে তাকাতে চাই না। সামনে এগোতে চাই। যে ভালোটা হচ্ছে, এখন বা যেরকম শেপে আছি, চেষ্টা করব ভালো সময়টা- যত লম্বা সময় ধরে রাখা যায়।’ যে সেঞ্চুরির জন্য এতটা অপেক্ষা ছিল সেই সেঞ্চুরিতে পৌঁছান তিনি ৯৪ থেকে ছক্কা মেরে। সাহসী বটে! প্রথম সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে এমন ঝুঁকির পথ বেছে নিতে রোমাঞ্চপ্রিয় হতে হয়। তবে তানজিদ জানালেন, তিনি নিজের ভাবনায় ছিলেন স্বচ্ছ,‘আমি পরিষ্কার মানসিকতায় ছিলাম। ক্লিয়ার মাইন্ড না থাকলে এরকম সময়ে কেউ এমন ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলে না। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে এটা করলে হয়ত ভালো। আমি আমার সিদ্ধান্তে গিয়েছি আর কী।’

প্যানেল হু

×